আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ অসমের এক বাসিন্দা। ১৬টি বৈধ নথি জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেন না। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওই ব্যক্তি পিটিশন জানালেও সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, আবেদনকারী ১৬টি নথি জমা দিলেও তা নাগরিকত্ব প্রমাণের বৈধ নথি নয়। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে থেকে।

 

জানা গিয়েছে, অসমের কামরূপ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক নামক এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটির 'ফরেনার্স ট্রাইবুনাল' আমিনুল হককে 'বিদেশী' বা ভারতের নাগরিক নন বলে ঘোষণা করেছিল। ট্রাইবুনালের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন আমিনুল।

 

গত ৩০ জুন মামলার শুনানিতে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, 'ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৬৪'-এর ধারা নয় নম্বর ধারা অনুয়ায়ী, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার মূল দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যক্তির ওপরেই বর্তায়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারী সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

আমিনুল হকের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেল একজন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁর পরিবার বছরের পর বছর ধরে অসমের বাসিন্দা। নথিপত্রে বাবা ও ঠাকুরদার নামের বানানে কিছু অসঙ্গতি থাকায় ট্রাইবুনাল তাঁকে বিদেশী ঘোষণা করেছে।

 

নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আমিনুল আদালতে যে সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি হল-

 

১। ১৯৫১ সালের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) অনুলিপি (যেখানে তাঁর বাবা ও ঠাকুরদার নাম ছিল)।

 

২। ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মা-বাবা এবং নিজের নামের ভোটার তালিকার সার্টিফায়েড কপি।

 

৩। ১৯৭৩ সালের জমি কেনার দলিল

 

৪। প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং স্কুলের শংসাপত্র

 

শুনানির সময় আমিনুলের বাবা আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমিনুলকে নিজের ছেলে বলে পরিচিতি দেন। কিন্তু আদালত এই মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। হাইকোর্ট জানায়, উপযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বা দলিল প্রমাণ ছাড়া কেবল মৌখিক সাক্ষ্য দিয়ে রক্তের সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

 

আদালত লক্ষ্য করে যে, আমিনুলের বাবার নামে একাধিক বানান থাকলেও সেই বানানকে খুব একটা বড় করে দেখা হয়নি। কিন্তু আসল গরমিল দেখা দেয় তাঁদের বসবাসের স্থান পরিবর্তনের তথ্যে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ডোবাকুড়া, ঘুঘুদোবা এবং হাশদোবা—এই তিনটি গ্রামের ভোটার তালিকায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও পূর্বপুরুষদের নাম ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায়নি। কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মৌখিকভাবে দাবি করা হয়েছিল যে, পরিবারটি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে স্থানান্তরিত হয়েছিল। যা শেষমেশ আদালত মেনে নেয়নি।