আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাবের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া। চাকরির আশায় বিদেশ গিয়েছিলেন ওই যুবক। কিন্তু আট মাস পর তার দেহ কফিন-বন্দি হয়ে দেশে ফিরল। 

মৃত যুবকের নাম সমরজিৎ সিং (২১)। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সমরজিৎ  রাশিয়ায় যান। কিছু নিয়োগ এজেন্ট তাঁকে বিদেশে ভাল বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই প্রলোভনেই তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। 

পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর সমরজিৎকে জোর করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা হয়। কোনও সামরিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। তারপর সরাসরি তাঁকে নাকি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবার বহুদিন ধরে তার কোনও খোঁজ পায়নি। 

শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সমরজিতের দেহ ভারতে পৌঁছায়। দেহটি আনা হয় ইন্দিরা গান্ধী আন্তির্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তা লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। 

মৃত যুবকের বাবা চরণজীৎ সিং পেশায় মুদি দোকানের মালিক। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি বলেন, “এজেন্টদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সন্তানদের বিদেশে পাঠাবেন না। যতই আর্থিক কষ্ট থাকুক, এমন ঝুঁকিও নেবেন না।” বাবার কথায়, ছেলের উদ্দেশ্য ছিল পরিবারকে সাহায্য করা। তিনি বলেন, দেশে যদি ভাল কাজ থাকত, তাহলে ছেলে বিদেশে যেত না। সে শুধু পরিবারের জন্য ভাল কিছু করতে চেয়েছিল। 

পরিবারের দাবি, যুবকের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলিতে, ঠিক কী ঘটেছিল তা এখনও তারা জানেন না। এই ঘটনা আবারও বিদেশে চাকরির নাম করে প্রতারণার বিষয়টি সামনে এসেছে। অনেক যুবক এজেন্টদের কথায় বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু তার পরিণতি হয়ে উঠছে ভয়াবহ।