আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাস্তায় যাচ্ছিলেন। জানতেন না, মাঝ পথেই অপেক্ষা করে রয়েছে ভয়াবহ ঘটনা। অপেক্ষা করে রয়েছে মৃত্যু। আর এবারেও মৃত্যুর কারণ নেই একই। ঘুড়ির মাঞ্জা। বাইকে যাওয়ার পথে ঘুড়ির মাঞ্জায় গলা কাটে কর্ণাটকের যুবকের। জানা গিয়েছে, যুবকের নাম সঞ্জু কুমার। তিনি সেই মুহূর্তেও মেয়েকে ফোন করেন। তবেঁ শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয়েছে যুবকের।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কর্ণাটকের বিদার জেলার তালামাদগি ব্রিজের কাছে সঞ্জুকুমার হোসামানির রাস্তায় ছিলেন। রাস্তার ওপারে একটি শক্ত ঘুড়ির মাঞ্জা গলা কেটে ঢুকে যায়। গলায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়। ব্যাপক রক্তপাতও হয় তাঁর। বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার সময় তিনি কোনওভাবে তার মেয়ের নম্বরে ডায়াল করতে পেরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে তিনি বাড়িতে একটা ফোন করতে পারেন কোনও ভাবে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশকিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ওই ঘটনার। যদিও ওই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রক্তে ভেজা হোসামানি তাঁর ফোনে কোনও রকমে কোনও একটি নম্বরে ডায়াল করার চেষ্টা করছেন।
একজন পথচারী তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পান এবং ক্ষতস্থানে কাপড় দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল, কিন্তু যতক্ষণে তা পৌঁছায়, ততক্ষণে হোসামানির মৃত্যু হয়। সঞ্জজুর মৃত্যুতে আত্মীয় পরিজনেরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছলে হোসামানি বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন এত দেরিতে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে, ততক্ষণে বিপুল রক্তপাত ঘটে গিয়েছে।
ঘটনার পর, হোসামানির আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ দেখান। নাইলন ঘুড়ির সুতো ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং জরুরি পরিষেবার উন্নতির দাবিতে আওয়াজ তোলেন তাঁরা একত্রিত হয়ে। ঘটনায় মান্না এখেলি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে যে, তদন্ত চলছে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দেশের অনেক জায়গায় মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো একটি ঐতিহ্য। আগে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য সুতির গুঁড়ো কাচের লেপা দড়ি ব্যবহার করা হত, কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে, অনেক জায়গায় সুতির সুতোর জায়গা নাইলনের দড়ির ব্যবহার বেড়েছে। স্থায়িত্ব এবং কম দামের কারণে নাইলন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কিন্তু সস্তা এবং জনপ্রিয় হলেও, নাইলনে আঘাত অনেক বেশি গভীর হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে অনেক বেশি। অনেক এলাকায় এই নাইলনের দড়ি, চীনা মাঞ্জা নামে পরিচিত। এই দড়িগুলো বছরের পর বছর ধরে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ দেশজুড়ে। সম্প্রতি সোমবার, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু হয় ৪৫ বছর বয়সী রঘুবীর ধাকরের।
