আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই চুক্তিকে "সব বাণিজ্য চুক্তির জননী" বলে অভিহিত করেছেন। দুই নেতাই এ সংক্রান্ত একটি রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, বিশ্বের দু'টি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক বাণিজ্য জোট – যাদের বাণিজ্যের মূল্য ১৮০ বিলিয়ন ইউরো – "আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছে।" তিনি বলেন, "আমরা এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা মানুষকে সাহায্য করবে... ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিটি পারস্পরিক বৃদ্ধির একটি নীলনকশা।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বসবাসকারী আট লাখ ভারতীয় উপকৃত হবেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তিকে "বিশ্বের দু'টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতার একটি অসাধারণ উদাহরণ" হিসেবে অভিহিত করেন এবং বস্ত্র, রত্ন ও গহনা এবং চামড়াজাত পণ্য-সহ বেশ কয়েকটি দেশীয় খাতের জন্য এর ইতিবাচক ফলাফলের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই চুক্তিটি বিশ্ব জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতিও আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে শক্তিশালী করে।"
মঙ্গলবার সকালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার একটি বড় অগ্রগতি। আলোচনা প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে এবং ২০১৬ সালে বাধার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। মূলত ভারতের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে চুক্তিটি থমকে ছিল। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ২০২২ সালে আলোচনা আবার শুরু হয় এবং গত বছর তা গতি পায়।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্য ও শিল্প পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস পাবে। যদিও কিছু কৃষি পণ্যকে এর বাইরে রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও একটি নির্দিষ্ট সীমা সাপেক্ষে তাদের স্বয়ংচালিত গাড়ির রপ্তানির জন্য উন্নত বাজার সুবিধা পাবে।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ফলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। আবার ইউরোপের অন্য দেশগুলির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও কোনও শুল্ক আরোপ করবে না নয়াদিল্লি। এই চুক্তির ফলে রফতানিযোগ্য ২৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক আরোপ হচ্ছে না। এর ফলে উপকৃত হবেন ভারত এবং ইউরোপের ওই দেশগুলিতে থাকা মোট ১৯০ কোটি ক্রেতা।
