আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র দশদিনের পরিচয়ে হোটেল রুমে ডেকে যৌন নির্যাতন৷ অন্ধ্রপ্রদেশে এক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে ১৯ বছরের এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনার মূলে রয়েছে সামাজিক মাধ্যম। 'ডিজিটাল গ্রুমিং'-এর ফাঁদে জেরবার তরুণী। মাত্র দশ দিন আগে ইনস্টাগ্রামে আলাপ হওয়া এক যুবকের লালসার শিকার হতে হলো তরুণীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, তিরুপতি গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা তরুণী। তার সঙ্গে কাদাপ্পার এক কলেজ ছাত্রের পরিচয় হয় অনলাইনে। গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা করার নাম করে তরুণীকে একটি হোটেলে নিয়ে যায় ওই যুবক। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তরুণীকে ঘরে আটকে রাখার পর সেখানে আরও কয়েকজন যুবক হাজির হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, এটি অভিযুক্তের পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল।

বিপদ বুঝে ওই তরুণী কোনওক্রমে হোটেল থেকে পালিয়ে যান। এরপর বাড়িতে পৌঁছে বাড়ির সদস্যদের সব জানান। পরের দিনই পুলিশের কাছে যায় পরিবার। পুলিশ হোটেলের সেই ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। নির্যাতিতা তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালেও পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা অভিযুক্তের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। দেখা গিয়েছে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তাঁদের নগ্ন ছবি বা ভিডিও হাতিয়ে নিতেন। এরপর সেই ছবি দেখিয়ে চলত ব্ল্যাকমেল। পুলিশ আধিকারিক রাম কিশোর জানিয়েছেন, "এটি অত্যন্ত ক্ষতিকারক প্রবণতা। সিসিটিভি ফুটেজের বাকি যুবকদেরও খোঁজ চালানো হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে আজই গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।" 

অন্যদিকে, গত শনিবারের ঘটনা। দেখে মনে হয়েছিল, অবসাদ থেকে চরম পথ বেছে নিয়েছেন যুবতী। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ঘটনায় এল নাটকীয় মোড়। পুলিশ জানাল, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা খুন। অভিযোগে মঙ্গলবার বৈশাখ (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক সম্পর্কে ওই যুবতীর আত্মীয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, বৈশাখের সঙ্গে ২৬ বছর বয়সি যুবতীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। জানা গিয়েছে, যুবতী বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। দিনের পর দিন জেদ করায় তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বৈশাখ। গত ২৪ জানুয়ারি নিজের একটি কারখানায় যুবতীকে ডাকে অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, এরপর তাঁকে বোঝানো হয়, লোকলজ্জার ভয়ে তারা দু’জনেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হবে।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খুনের ছক করতে দু’টি ফাঁসির দড়িও টাঙিয়েছিল বৈশাখ। অন্ধ বিশ্বাসের জেরে যুবতী গলায় ফাঁস দিতেই তাঁর পায়ের নিচ থেকে টুল সরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজের স্ত্রীকে ডেকে এনে বৈশাখ দাবি করে, সে এসে যুবতীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছে। এমনকী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটকও করে।

তবে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। অভিযোগ, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এবং নিচে নামানোর পরেও ওই যুবতীকে যৌন নির্যাতন করে বৈশাখ।

প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই রাতে কারখানার সিসিটিভি হার্ড ড্রাইভটিও নষ্ট করার ফন্দি ছিল তার। কিন্তু তার বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশ আগেই কারখানাটি সিল করে দেয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসতেই ভেঙে পড়ে বৈশাখ। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে সে। পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।