আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর প্রকাশের পর এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজনের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পরেই থাইল্যান্ড, নেপাল এবং তাইওয়ান-সহ বিভিন্ন দেশ স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়িয়েছে। নিপা সাধারণত শূকর ও বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এটি শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। কিন্তু ভারতে কি সত্যিই নিপার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে?

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অনুসারে, “নিপা ভাইরাস রোগটি কোনও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব নয় এবং এটি কেরলের দু’টি জেলা অর্থাৎ কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিজেদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।”

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্য সরকারের প্রাক্তন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সায়ন চক্রবর্তী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নিপা সংক্রমণের পাঁচটি ঘটনার খবরটি সত্য্ নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র দু’টি ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।” নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তদের বারাসাতে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দু’জনই স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাঁরা একে অপরের সংস্পর্শে এসেছিলেন, যার ফলেই সংক্রমণটি ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়িয়েছে। আধিকারিকরা কোভিড-১৯ অতিমারির সময় প্রথম চালু করা পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করছেন। সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং এবং ফুকেট বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের জ্বর এবং নিপা-সম্পর্কিত অন্যান্য উপসর্গের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নেপালও সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থল সীমান্তগুলিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে। যাত্রীদের পরীক্ষা করার জন্য বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতাল ও সীমান্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে যে কোনও সন্দেহজনক ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে ও সেগুলির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র ডঃ প্রকাশ বুধাথোকি বলেছেন, ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপা ভাইরাস সংক্রমণকে একটি ক্যাটাগরি ৫-এর তালিকাভুক্ত রোগ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।