আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুর নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিইএস (PES) বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মুসলিম ছাত্রকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ উঠল এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। ক্লাসরুমের ভেতরে ঘটা এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক মুরলীধর দেশপাণ্ডেকে ইতিমধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবারের। জানা গেছে, আফান নামের ওই ছাত্রটি ক্লাসের মাঝে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। অভিযোগ, এতেই মেজাজ হারান অধ্যাপক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চেক শার্ট পরা ওই অধ্যাপক ছাত্রটির দিকে চিৎকার করে বলছেন, "তোমার লজ্জা লাগে না?" ভিডিওর হইহট্টগোলের মধ্যেও স্পষ্ট শোনা যায় তিনি ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে ‘টেররিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলছেন। এখানেই শেষ নয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি— ওই অধ্যাপক ছাত্রটিকে অভিশাপ দিয়ে বলেন যে সে ‘নরকে যাবে’। এমনকি ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এসে ধরে নিয়ে যাবেন বলেও কটূক্তি করেন তিনি।
গোটা ঘটনাটি অন্য এক ছাত্রের মোবাইলে ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় ওঠে শিক্ষা মহলে। চাপের মুখে পড়ে তিন দিন পর ওই অধ্যাপককে সাসপেন্ড করার চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তবে ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের উল্লেখ না থাকায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এক সর্ব ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পড়ুয়া অভিযোগ করেছেন যে, নিগৃহীত ছাত্রটির পাশে দাঁড়ানোয় উল্টে আরও তিন ছাত্রকে অন্য অজুহাতে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবশ্য বিষয়টিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি পূর্ণসময়ের অধ্যাপক নন, বহু বছর ধরে সেখানে পার্ট-টাইম বা অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। উপাচার্যের কথায়, "একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারীর কাছ থেকে এমন আচরণ অভাবনীয়। ক্লাস রুমে মাঝেমধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে কেউ কেউ অতি-প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেন। তবে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)। অভিযুক্ত অধ্যাপকের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় একজন শিক্ষকের মুখে এমন সাম্প্রদায়িক ও অবমাননাকর মন্তব্য উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
















