আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর দাবিতে মঙ্গলবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন।

এর জেরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সহ সমস্ত সরকারি ব্যাঙ্কের কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন সাধারণত ভারতের সরকারি ব্যাঙ্ক এবং কিছু পুরনো বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ও আধিকারিকদের নিয়ে ন’টি বড় ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ।

গত ২৩ জানুয়ারি এই সংগঠনের তরফে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এই ধর্মঘটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে।

তবে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক সহ বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

ধর্মঘটের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৩ জানুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে এসবিআই জানায়, ধর্মঘটের দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে পরিষেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাঙ্ক স্বাভাবিক পরিষেবা বজায় রাখতে প্রস্তুত থাকলেও ধর্মঘটের কারণে কাজকর্ম প্রভাবিত হতে পারে।’

যদি এদিন ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট পুরোপুরি কার্যকর হয়, তাহলে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি টানা তৃতীয় দিনের জন্য কার্যত বন্ধ থাকবে।

রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কারণে আগেই ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত দেশজুড়ে এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট চলবে।

সংগঠনের মূল দাবি, ব্যাঙ্ক কর্মীদের জন্য অবিলম্বে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা। বর্তমানে ব্যাঙ্ক কর্মীরা প্রতি রবিবার এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি পান।

ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের দাবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI), লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC), জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (GIC), বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে যেখানে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু রয়েছে সেখানে ব্যাঙ্কগুলিই একমাত্র পিছিয়ে রয়েছে।

এই দাবি প্রথম জোরালোভাবে ওঠে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বেতন সংশোধন সংক্রান্ত চুক্তির সময়। তখনই ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন মাসের প্রত্যেক শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখার দাবি তোলে।

তবে সম্প্রতি কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকেও কোনও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটের পথে হাঁটে ব্যাঙ্ক সংগঠনটি। ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারের তরফে তাদের ‘ন্যায্য দাবি’-তে কোনও সাড়া না মেলায় তারা এই কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছে।