আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়া দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল ইরান। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে উত্তপ্ত। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক পরিষেবা ব্যাহত। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে একাধিক দেশে।
তবে এবার ভারতে রওনা দেওয়া দুটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দিল ইরান। উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খুব শীঘ্রই ভারতীয় জাহাজগুলির জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাষ্ট্রদূত ফাতহালি জানিয়েছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আপনারা ইতিবাচক পরিস্থিতি দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই।’
ফাতহালি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক স্বার্থের মিল রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা মনে করি ইরান ও ভারতের এই অঞ্চলে অনেক সাধারণ স্বার্থ রয়েছে।’
ভারত–ইরান সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারত বন্ধু দেশ। আমাদের অনেক সাধারণ স্বার্থ এবং পারস্পরিক বিশ্বাস রয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে ভারত ইরানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত সরকার আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে।’
দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় শুক্রবার ভোক্তাদের আশ্বস্ত করল কেন্দ্র সরকার। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে এলপিজি সরবরাহে কোনও ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক বিবৃতিতে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বাড়ার কারণে সরকার ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
তাঁর মতে, চলতি মাসের ৫ মার্চ থেকে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যাতে বাড়তি চাহিদা সহজেই মেটানো যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে একাধিক বুকিং করার প্রয়োজন নেই। দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে।’
