আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে তীব্র জল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভোপাল জেলার কালেক্টর কৌশলেন্দ্র বিক্রম সিং নতুন বেসরকারি টিউবওয়েল বা বোরওয়েল খোঁড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইতিমধ্যেই ভোপালকে ‘ওয়াটার–স্কার্স জোন’ বা অল্প জলের এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রশাসনের দাবি, গত কয়েক বছরে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার বেড়েছে। অর্থাৎ মাটির নীচের জল মানুষ বেশি ব্যবহার করছেন। কৃষিকাজ, বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালির কাজে এই অতিরিক্ত জল তোলা হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। গরমকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, আগামী গ্রীষ্মে বড় ধরনের পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রদেশ পানীয় জল সংরক্ষণ আইন ১৯৮৬ অনুযায়ী এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে অনুমতি ছাড়া বোরওয়েল খোঁড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ নিয়ম ভেঙে বোরওয়েল খোঁড়েন, তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এফআইআরও করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
তবে সরকারি পানীয় জল প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকবে। তবে সেক্ষেত্রেও আগে অনুমতি নিতে হবে।
যদিও এই ঘটনা ভোপালে প্রথম নয়। মধ্যপ্রদেশের আরও কয়েকটি জেলায় আগেও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খড়গাঁও এবং ইন্দোর এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম। অতীতেও গরমকালে কয়েক মাসের জন্য বোরওয়েল খননে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, প্রশাসন সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জল সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা রেইনওয়াটার হারভেস্টিং করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে তাদের। সঙ্গে কম জলে সেচের কাজ করার কথাও বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জল অপচয় বন্ধ করার আবেদনও জানানো হয়েছে। এছাড়া পুকুর, নদী বা সরকারি জল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাটির নীচে জলের স্তর নিম্নমুখী, এটা আশঙ্কার ব্যাপার। কিন্তু আশার কথা এই যে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। নজরদারির জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। কেউ নিয়ম ভাঙলে স্থানীয় প্রশাসন বা হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কিছুটা স্থিতিশীল হবে। এতে ভবিষ্যতে ভোপালের মানুষের পানীয় জলের সঙ্কট কমবে বলে ধারনা।
