আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন উত্তেজনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হলেন এক জ্যোতিষী। একটি ভিডিওতে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত-সম্ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। 

ভিডিওতে মহিলা নিজেকে বৈদিক জ্যোতিষী ও বাস্তু বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেছেন। তিনি সমাজ মাধ্যমকে জানান, জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট দিনে বড় ঘটনা ঘটতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার পরে এবার পাকিস্তানকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, একদিকে আফগানিস্তান এবং অন্যদিকে ভারত থেকে চাপ তৈরি হতে পারে। 

এই দাবি সামনে আসে যখন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানে যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে। 

এই প্রেক্ষাপটে ভাইরাল ভিডিওতে ওই জ্যোতিষী বলেন, মানুষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশেষ দিনে আক্রমণ ঘনিয়ে আসতে পারে পাকিস্তানের উপরে। ভিডিওতে তিনি বলেন, মানুষের কাছে কিছু নগদ অর্থ রাখা উচিত। পাশাপাশি ওষুধ, মোবাইলের জন্য সোলার চার্জার এবং এক থেকে দুই মাসের খাদ্য মজুত রাখার পরামর্শও তিনি দেন। 

জ্যোতিষ গণনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দিনে বিশেষ কিছু গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান তৈরি হবে। তার মতে, এই অবস্থান সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে ওই দিনে অঙ্গারক যোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি গ্রহ একই ঘরে অবস্থান করবে বলে তার দাবি। সঙ্গে তিনি এও বলেন, ক্রূর নক্ষত্র, ক্রূর গ্রহের লগ্ন, অঙ্গারক যোগের সৃষ্টি, খাপর যোগের সৃষ্টি, রিক্ত তিথি থাকা, গ্রহণের পরের যে ৩০–৩৫ দিন খুবই সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। এই সময়ের মধ্যেই এই তারিখটি পড়েছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের মঙ্গলের মহাদশা চলছে, পাশাপাশি দেশের মঙ্গলের মহাদশায় রাহুর অন্তর্দশা চলছে। 

এই দাবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকেই এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এভাবে মানুষকে ভয় দেখানো ঠিক নয়। অকারণে আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়। কেউ কেউ আবার বলেছেন, শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার জন্যই এমন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এই সব ভিডিওর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। কেউবা মন্তব্য করেছেন, পরিস্থিতি এখন মানুষের হাতের বাইরে। এই সময়ে এমন নেতিবাচক কথা বলে আতঙ্ক বাড়ানোর কোনও অর্থ নেই। 

এই ভিডিও নিয়ে বিতর্ক চললেও সরকারি বা সামরিক স্তর থেকে এমন কোনও সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই ধরনের দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।