আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি ভারতও। দেশজুড়ে এলপিজি সঙ্কটের মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ।

রান্নার গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় একাধিক পরিবারও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তাছাড়া, সঙ্কটের মধ্যে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং এলপিজি সরবরাহের অনিশ্চয়তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে একাধিক পরিবার।

তবে শুনলে অবাক হবেন দেশজুড়ে এলপিজি সঙ্কটের মধ্যে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি অসমের জোড়হাটের একটি পরিবারে। তারা এক আশ্চর্যজনক পদ্ধতিতে রান্না করছে বলে জানা গিয়েছে।

এলপিজি সিলিন্ডার নয়, বরং এই পরিবারে রান্না হচ্ছে বাড়ির উঠোনে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাসে। যা ব্যবহার করেই চলছে দৈনন্দিন রান্নাবান্না। এটি এমন একটি কাকতালীয় ঘটনা যা কাছ থেকে না দেখলে প্রায় অলৌকিক বলে মনে হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঢেকিয়াজুলি কাহার গাঁও গ্রামে। জানা গিয়েছে, সেই গ্রামের এক বাসিন্দা জিতু গগৈয়ের বাড়িতে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই ওই এলাকায় মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে।

প্রায় ১৪ মাস আগে জিতু তাঁর বাড়ির উঠোনে একটি সাধারণ জলের পাইপ বসান। পাইপটি পানীয় জলের জন্য বসানো হলেও আচমকাই তা এক অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়।

জানা গিয়েছে, মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত খোঁড়ার পরেও জল বেরোচ্ছিল না। তার পরিবর্তে একটানা দাহ্য গ্যাস বের হতে শুরু করে। কোনও পাইপ লাইন বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পাইপটি নিজেই উনুন হিসাবে কাজ করে।

তবে প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরত্ব দেয়নি জিতুর পরিবার। কিন্তু কে জানত, দেশজুড়ে এলপিজি সঙ্কটের মধ্যে এই পাইপলাইনই জিতুর কাছে শাপে বর হয়ে দাঁড়াবে। জানা যায়, প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও জিতুর পরিবার পরে পাইপটিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বাড়তি পাইপ লাগিয়ে তাঁরা গ্যাসটিকে সরাসরি রান্নাঘরের সঙ্গে জুড়ে দেন। ফলে, এলপিজির খরচ সম্পূর্ণভাবে বাঁচিয়ে নির্বিঘ্নে রান্নার কাজ চালাচ্ছেন তাঁরা। তবে খরচ বাঁচালেও বিনামুল্যের এই গ্যাস ব্যবহারের পিছনে রয়েছে বড়সড় ঝুঁকি।

কারণ, এই পাইপ লাইনের গ্যাস ব্যবহারে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যে কোনও মুহূর্তে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কমে বা বেড়ে গিয়ে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন এই ধরনের অজানা উৎসের গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য এবং যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিস্ফোরণ, আগুন লাগা কিংবা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টের মতো বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এমনকী, ফুসফুসের রোগ বা একাধিক শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 

খবর ছড়াতেই স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে গোটা বিষয়টি। কারণ, এর আগে অসমের বাঘজানে গ্যাস লিকের ঘটনা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

বার বার একই জিনিস হতে থাকলে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস যে কোন সময় আগুনের সংস্পর্শে এসে পুরো গ্রামকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করতে পারে। তাই প্রশাসন জিতুর পরিবারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে।