আজকাল ওয়েবডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়েনি। বেঁচে গিয়েছিলেন, একা, একজন। চারদিকে মৃত্যু মিছিল, হাহাকারের মাঝে দাঁড়িয়ে ঘরে ফিরেছিলেন একমাত্র বিশ্বাস কুমার রমেশ। তারপর? এখন কেমন রয়েছেন তিনি? জানেন?
সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, কী কঠিন জীবনযাত্রার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। শরীরের একাধিক জায়গায় ব্যথা, জ্বালা পোড়ার দাগ-ক্ষত। সামান্য স্নানের জন্যও স্ত্রীর সাহায্য নিতে হয়। ঘরে রয়েছে চার বছরের সন্তান, তার সঙ্গেও পারতপক্ষে বেশি কথা বলেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকেন।
দুর্ঘটনার পর, এয়ার ইন্ডিয়ার মূল কোম্পানি টাটা গ্রুপের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে রমেশ অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবেদন অনুসারে এটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু রমেশের উপদেষ্টা বলছেন যে অর্থ যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, বিরেয়াট ব্যবসা দাঁড় করিয়েও রমেশ এখন সামান্য বাড়ি থেকেই বেরোতে পারছেন না। কাজ করতে পারছেন না। সেই তুলনায় এই সাহায্য মূল্য নেহাতই কম। তাঁরা চাইছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী ক্যাম্পবেল উইলসন তাঁর পরিবার এবং দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করুন, তাঁদের পরিস্থিতির কথা শুনুন।
১২ জুনের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় কেঁপে উঠছে গোটা বিশ্ব। আশঙ্কা, বিমানের প্রায় সব যাত্রীই মৃত। দুর্ঘটনাস্থল, হাসপাতালগুলির সামনে হাহাকার। আত্মীয় প্রিয়জনদের খোঁজ। আহমেদাবাদের আসারওয়া সিভিল হাসপাতালের জেনারেল বেড়ে শুয়ে এক যুবক, জানিয়েছিলেন তিনিও ওই বিমানে ছিলেন।বছর ৪০-এর বিশ্বাস কুমার রমেশ, মৃত্যু মিছিলের মাঝে, বেঁচে গিয়েছিলেন বরাত জোরে।
যুবকের এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের টিকিটের ছবিও প্রকাশ্যে আসে সেদিন। বুকে, চোখে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় তাঁর গভীর ক্ষত ছিল তাঁর। তিনি জানিয়েছিলেন, উড়ানের কয়েক সেকেণ্ড পরেই নাকি বিকট শব্দ শোনা যায়। তারপরেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। ওই বিমানে তাঁর ভাই ছিলেন। কিন্তু ভাই প্রাণে বাঁচেননি।
১২ জুন, রমেশ জানিয়েছিলেন, জ্ঞান ফিরে তাকিয়ে দেখেন চারদিকে শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেহ, হাহাকার। সেখান থেকে দৌড়ে চলে যান তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে লন্ডনেই রয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী পুত্র এখনও সেখানেই থাকতেন। ১২ জুনের ওই বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা, ক্ষত এখনও মোছেনি। এক বিমানের, একজন যাত্রী ছাড়া, বাকি সকল যাত্রী-কর্মী-চালক, মোট ২৭৪ জনেরই মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিরও। বিমানটি যে মেডিক্যাল কলেজের আবাসনের উপর ভেঙে পড়ে, প্রাণ যায় সেখানকার বহু পড়ুয়া, কর্মীর।
