আজকাল ওয়েবডেস্ক: কানাডার ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দরে মদ্যপ অবস্থায় উড়ানের অভিযোগে এক পাইলটকে আটক করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল এয়ার ইন্ডিয়া। তারা জানাল সংশ্লিষ্ট পাইলটকে উড়ান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটটি দেরিতে ছাড়ে।


এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভ্যাঙ্কুভার থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে দেরির মুখে পড়ে। কানাডার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাইলটের ‘ফিটনেস ফর ডিউটি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পাইলটকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।


বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাইলটের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভ্যাঙ্কুভারেই একজন বিকল্প পাইলটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি ফের আকাশে ওড়ে।


এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালীন ওই পাইলটকে সমস্ত উড়ান সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এয়ার ইন্ডিয়া সব ধরনের নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কোম্পানির নীতি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।


সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দরের দোকানের এক কর্মী প্রথম কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। অভিযোগ, ওই পাইলট দোকানে মদ কিনছিলেন এবং তাঁর দেহ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় তিনি ব্যর্থ হন। এরপরই গোটা বিষয়টি সকলের সামনে আসে।


আরেকটি পৃথক ঘটনায় ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে। এই ঘটনাগুলি ঘিরে এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপারেশনাল সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নতুন বছর শুরু হয়েছে। সেখানে যদি প্রথম থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে বছরের বাকি সময়টা এয়ার ইন্ডিয়াকে আরও সমস্যার সামনে পড়তে হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।