আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট এখন রোজকার সঙ্গী। কিন্তু সেই ইন্টারনেটের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে একাধিক ভয়াবহ লোভের ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েই পুণের এক ঠিকাদার খোয়ালেন তাঁর প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। খবর অনুযায়ী তাঁকে টোপ দেওয়া হয়েছিল এক অদ্ভুত 'চাকরি'র। যেখানে এক মহিলাকে গর্ভবতী করতে পারলেই মিলবে বড় অঙ্কের টাকা। এই প্রতারণা চক্রটি 'প্রেগন্যান্ট জব' বা 'প্লেবয় সার্ভিস' নামে পরিচিত। জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই ঠিকাদার মোবাইলে একটি বিজ্ঞাপন দেখেন। সেই বিজ্ঞাপনের ভিডিওতে এক মহিলা হিন্দিতে দাবি করেন, যদি কোনও পুরুষ তাঁকে গর্ভবতী করতে পারেন, তবে বিনিময়ে সেই পুরুষকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। রাতারাতি বিপুল অর্থ পাওয়ার এই লোভনীয় প্রস্তাবে ওই ঠিকাদার আকৃষ্ট হন। পরে বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে যোগাযোগ করেন।
যোগাযোগ করার পরই ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। জানা গিয়েছে, প্রথমে 'মহিলা'-র পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ভিডিও পাঠানো হয়। এরপরই সাইবার অপরাধীদের একটি দল তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। তারা নানা ধরণের 'প্যাকেজ' বা চুক্তির নাম করে ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা চাইতে থাকে।
প্রতারকরা তাঁকে বোঝায় যে, এই 'প্রসেসিং' শেষ করতে হলে ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ দিতে হবে। এর মধ্যে ছিল - নাম নথিভুক্ত করার খরচ (রেজিস্ট্রেশন ফি), সদস্য হওয়ার ফি (মেম্বারশিপ ফি), গোপনীয়তা বজায় রাখার খরচ এবং অন্যান্য 'প্রসেসিং চার্জ'। খবর অনুযায়ী বিভিন্ন অজুহাতে বারবার টাকা চাইতে থাকে অভিযুক্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, এইভাবে ১০০ বারেরও বেশি অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে ওই ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট প্রায় ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র। টাকা হাতানোর পরই তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
যখন ঠিকাদার বুঝতে পারলেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন, ততক্ষণে তাঁর সব টাকা জলে। এরপর তিনি বান্দ্রা পুলিশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো। প্রতারকরা মানুষকে বিশ্বাস করাতে জাল আইনি কাগজপত্র, এমনকী তারকাদের জাল সই ব্যবহার করত। পরে টাকা দিতে অস্বীকার করলে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আরও টাকা আদায় করত।
ঘটনার জেরে পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরণের লোভনীয় এবং অদ্ভুত বিজ্ঞাপনে কোনওভাবেই যেন সাড়া না দেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, "দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জন প্রায় সবসময়ই বড়সড় প্রতারণার সঙ্কেত দেয়।"
