আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের আবহে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কেরল। মঙ্গলবার বিকেলে এক বাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যুমিছিল। আহত হয়েছেন বহু শ্রমিক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিশূর জেলায়। বাজির কারখানায় বিস্ফোরণের জেরে কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বেশিরভাগই ওই কারখানার শ্রমিক। পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুনম উৎসবের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজি মজুত করে রাখা ছিল ওই কারখানায়। বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ধানক্ষেতের পাশেই ওই কারখানার। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকদের মৃতদেহের টুকরো ধানের জমিতে ছিটকে পড়েন। কারখানায় সেই সময় প্রচুর শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ একাধিক হাসপাতালে আহত শ্রমিকদের ভর্তি করানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "কেরলের ত্রিশূরের বাজির কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরিণতিতে অত্যন্ত মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনদের হারালেন, তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।"
প্রসঙ্গত, দু'দিন আগেই তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাটানারপট্টি গ্রামে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় এখনও কমপক্ষে ২৫ জনের প্রাণহাণি ঘটেছে। গুরুতর জখম অন্তত ৬ জন। জখম ৬ জনকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রন এবং থাঙ্গাম থেনারাসুকে ওই গ্রামে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানের তদারকি করারও অনুরোধ জানিয়েছেন। বাজি তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বিরুধুনগর জেলায় গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।















