আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ। মাঝ রাস্তায় একটা থার এসইউভি গাড়ি কেরামতি দেখাচ্ছে। শহরের মাঝখানে এই কেরামতির ভিডিও পোস্ট হতেই দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। গত রবিবার, এই ভিডিও ভাইরাল হতেই শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন প্রশ্নের মুখে। 

ভিডিওটি মাত্র ২২ সেকেন্ডের, কিন্তু এই অল্প সময়েই চালকের বেপরোয়াপনা ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটা একটা থার এসইউভি বেপরোয়া ভাবে চলছে। একটি অভিজাত এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকার মানুষ কম থাকায় সৌভাগ্যবশত কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। 

ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি মাঝ রাস্তায় দ্রুত গতিতে জোরে জোরে ঘুরপাক খাচ্ছে। চালক পাঁচবার পুরো বৃত্তাকারে গাড়িটিকে ঘোরায়। এর ফলে মাঝরাস্তায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনাটি শনিবার সকালে ঘটে বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় রাস্তায় ভিড় কম ছিল। তাই সৌভাগ্যবশত বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। 

ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পুলিশ চৌকি ছিল। তারপরেও চালককে প্রকাশ্যে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পুলিশ কর্মী গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু চালক গাড়ি থামাননি। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাঁর গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যান।

এই ঘটনার ভিডিও রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে নেট দুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ‘এটা শুধুমাত্র ট্রাফিক গাফিলতির ফল।’ অনেকে এই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই। ট্রাফিক পুলিশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিলে এই বেপরোয়াপনা অবশ্যই ঘটত না।’ কিন্তু কেউ কেউ আবার বলেছেন, ‘দোষ শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দিলে ভুল করা হবে। মূল দোষ সিভিক সেন্সের অভাবের। যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি একবার ভাবলেনও না যে শহরের মাঝখানে এভাবে গাড়ি নিয়ে কেরামতি দেখালে কেউ আহত বা নিহতও হতে পারতেন।’

বিষয়টিকে ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়িটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। পুলিশের কথায়, ‘গাড়িটি চালাচ্ছিল রাজশেখর মিশ্র নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং আমরা গাড়িটিকেই বাজেয়াপ্ত করেছি।’ পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই বেপরোয়া স্টান্ট করার সময়ে গাড়িতে কোনও নম্বর প্লেটও ছিল না। 

অভিযুক্তকে এখনও আটক করা হয়নি। এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। নজরদারি বেড়েছে অন্যান্য গাড়ির উপরেও। নম্বর প্লেট ছাড়া কোনও গাড়িতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে এলাকার পুলিশ।