পেট বা অন্ত্রের হালকা উপসর্গ যেমন ব্যথা, বদহজম, গ্যাস বা অস্থিরতা অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা সতর্ক করেন, এই ছোট উপসর্গগুলো কোলন বা অন্ত্রের ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের শুরুর সংকেতও হতে পারে। যা অবহেলা করলে রোগ দেরিতে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা অনেক কঠিন হয়ে যায়।

ক্যানসার মাত্রই মারাত্মক, আর তা যদি পাকস্থলীর ক্যানসার হয়, তাহলে তার ফলাফল আরও ভয়াবহ হতে পারে। এর প্রধান কারণ হল, পাকস্থলীর ক্যানসারকে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা খুব কঠিন। এটাই এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সন্দেহ নেই, আজ বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে নানা পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এখনও সময়মতো শনাক্তকরণ একটি বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার সবসময় শুরুতেই বড় লক্ষণ দেখায় না। অনেক সময় পেটে হালকা ব্যথা, পেট ফুলে থাকা, হজমের সমস্যা, অল্প ওজন কমে যাওয়া বা খাবারে অনীহা-এই সব লক্ষণকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে রোগীরা চিকিৎসা শুরু করেন না। কিন্তু এই লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করা সবচেয়ে বড় ভুল। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোলন ক্যানসারের হার কম বয়সি মানুষের মধ্যেও বাড়ছে। এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেক সময় সাধারণ সমস্যা ধরে নেওয়া হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন-

*দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
*বদহজম, গ্যাস বা পেট ফুলে থাকা
*হঠাৎ ওজন কমা বা খাবারে আগ্রহ কমে যাওয়া
*নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
*মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া 

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।