আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওজন কমিয়ে একেবারে ছিপছিপে চেহারায় ধরা দিয়েছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান ঐশ্বর্য মোহনরাজ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি জানান, মাত্র ছ’মাসে নিজের ওজন ৭৪ কেজি থেকে কমিয়ে ৫২-তে নামিয়ে এনেছেন তিনি। এই অসাধ্য সাধনের চাবিকাঠি ছিল ‘মৌনজারো’-র মতো কিছু বিশেষ ইনজেকশন। কিন্তু বাহ্যিক এই ঝকঝকে রূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক যন্ত্রণার কাহিনি। ঐশ্বর্য নিজেই জানিয়েছেন, এই মেদ কমানোর লড়াইয়ে তাঁকে লড়তে হয়েছে অসহ্য বমিভাব, শারীরিক অস্বস্তি এমনকী মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার মতো কঠিন কিছু সমস্যার সঙ্গে।

ঐশ্বর্যের এই ঘটনা সামনে আসতেই নতুন করে তর্কে মেতেছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুম্বইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের চিকিৎসক মনোজ ভারুচা সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের ওষুধ কোনও ‘বিউটি ট্রিটমেন্ট’ বা সাজগোজের প্রসাধন নয়। এগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ, যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই চিকিৎসকের কড়া নজরদারি ছাড়া এগুলি ব্যবহার করা মানেই বিপদ ডেকে আনা।

চিকিৎসক ভারুচার মতে, স্রেফ পছন্দের পোশাকে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য এই ওষুধ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। 

এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক মাপকাঠি রয়েছে:

যাঁদের বিএমআই ৩০ বা তার বেশি, অর্থাৎ যাঁরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্থূল।

যাঁদের বিএমআই ২৭-এর বেশি এবং সঙ্গে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পিসিওএস-এর মতো সমস্যা রয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা আরও বেশি। কারণ, আমাদের এই অঞ্চলে ওজন কম থাকলেও শরীরে মেদ জমার এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের প্রবণতা বেশি থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, ওজন কমানো আর রোগের চিকিৎসা- এই দুটোর মধ্যে ফারাক বোঝা খুব জরুরি। ‘মৌনজারো’ মূলত তৈরি করা হয়েছিল টাইপ-২ ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য। অন্যদিকে ‘জেপবাউন্ড’ বা ‘উইগোভী’র মতো ওষুধগুলি ওজন কমানোর কাজে লাগে। কিন্তু এগুলি কোনও সাময়িক ম্যাজিক নয়। বিয়েবাড়ি বা কোনও অনুষ্ঠানের আগে কয়েক কেজি কমানোর জন্য এগুলি তৈরি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল ধরে রাখতে এই চিকিৎসা সারা জীবন চালিয়ে যেতে হতে পারে।

বিপদ কোথায়?

ভুলবশত বা নিজের ইচ্ছামতো এই ইনজেকশন নিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। চিকিৎসক ভারুচা কড়াভাবে জানিয়েছেন, তিনটি ক্ষেত্রে এই ওষুধ একেবারেই নিষিদ্ধ:

১) গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

২) প্যানক্রিয়াটাইটিস: যাঁদের অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহের সমস্যা আছে।

৩) ক্যানসার: বিশেষ ধরনের থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে এই ওষুধ ভুলেও ছোঁয়া উচিত নয়।

পরিশেষে চিকিৎসকের পরামর্শ, ডায়েট এবং শরীরচর্চার পাশাপাশি যদি ওষুধের সাহায্য নিতেই হয়, তবে সবার আগে দরকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ।