ঘুম থেকে ওঠার পর সকালে অনেকেরই রক্তচাপ অর্থাৎ ব্লাড প্রেশার বেশি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা অবহেলা করলে তা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য সকালে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সকালে ঘুম ভাঙার সময় শরীরে কিছু হরমোন যেমন কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিন হঠাৎ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো শরীরকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই একটু বাড়ে। কিন্তু এই বাড়তি চাপ যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যায় এবং নিয়মিত ঘটে, তাহলে তা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
কেন সকালে রক্তচাপ বেশি হয়? চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, বেশি লবণযুক্ত খাবার খাওয়া, রক্তচাপের ওষুধ ঠিকমতো না খাওয়া, ধূমপান বা মদ্যপান, দীর্ঘদিনের অনিয়মিত জীবনযাপন। এই সব কারণ মিলেই সকালের দিকে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
কী কী সমস্যা হতে পারে? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সকালে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়, কিডনি ও চোখের ক্ষতি হতে পারে, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, অনেক সময় এই উচ্চ রক্তচাপ কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করে, যাকে চিকিৎসকরা ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলেন।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালেই সকালের রক্তচাপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন প্রতিদিন সকালে একই সময়ে রক্তচাপ মাপা, লবণ ও ভাজাভুজি খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করা, মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, সকালে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, সঠিক জীবনযাপন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
