ফিট থাকা শুধু কিছুদিনের প্রচেষ্টা নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত সুঅভ্যাস ও সঠিক জীবনযাপন। কিছু ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে। আসলে সুস্থতার জন্য কঠোর ডায়েট বা ব্যায়ামের চেয়েও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, বেশ কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করলে বছরভর স্বাস্থ্য ভাল রাখা সম্ভব।
১. সুষম খাবার খানঃ প্রতিদিনের খাবারে রাখুন প্রচুর শাকসবজি, ফল, দানাশস্য, ডাল ও দুগ্ধজাত খাবার। এগুলো শরীরে এনার্জি জোগায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজম ক্ষমতা ঠিক রাখে। একইসঙ্গে প্রসেসড, তেলযুক্ত বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।
২. পর্যাপ্ত জল পান করুনঃ শরীরের প্রতিটি কোষ ঠিকমতো কাজ করতে জল প্রয়োজন। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন। জল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক সতেজ রাখে।
৩. নিয়মিত শারীরিকভাবে সচল থাকুনঃ প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগাভ্যাস করুন। দীর্ঘসময় বসে কাজ করলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটুন বা স্ট্রেচ করুন। শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদযন্ত্র ভাল রাখে এবং এনার্জি বাড়ায়।
৪. মনোযোগ দিয়ে ধীরে খানঃ খাবার খেতে সময় নিন, দ্রুত না খেয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। এতে খাবার ভালভাবে হজম হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুমানঃ সুস্থতার জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়।
৬. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুনঃ ধ্যান, হালকা যোগাভ্যাস বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। মানসিক শান্তি শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিনঃ দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার চোখে চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত ও মানসিক চাপ বাড়ায়। মাঝে মাঝে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন।
৮. শরীরের সংকেত শোনার অভ্যাস করুনঃ যদি ক্লান্তি বা ব্যথা অনুভব হয়, বিশ্রাম নিন। সমস্যা দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
