ঘাড় বা বগলে যদি হালকা থেকে গাঢ় কালো দাগ পড়ে, তা শুধু ময়লা বা ত্বকের সমস্যার কারণে নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের বড় স্বাস্থ্যসংকেত হতে পারে। এই সমস্যা সাধারণত অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস নামে পরিচিত।

আসলে শরীর যখন ঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না, তখন অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষকে প্রভাবিত করে, ফলে ঘাড় বা বগলে কালো দাগ তৈরি হয়। এটি শুধু ত্বকের সমস্যা নয়, একইসঙ্গে প্রি-ডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস), ফ্যাটি লিভার এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের প্রাথমিক সতর্কতা হতে পারে।

কালো দাগ কমানোর উপায়

কেবল স্ক্রাব বা ত্বক ঘষে এই দাগ সরানো সম্ভব নয়। মূল সমাধান হল ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা। সেক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে উপকার পেতে পারেন। যেমন-

*বেশি শাক-সবজি, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান। সীমিত পরিমাণে খান চিনি, ভাজা ও রিফাইন্ড খাবার।
*প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করা, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংও উপকারী। বিশেষ করে পেটের চর্বি কমানো জরুরি। 
*পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ঘাড়ের কালো দাগ থাকলে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করানো উচিত। যেমন ফাস্টিং গ্লুকোজ, এইচবিএ১সি(৩ মাসের গড় শর্করা), ফাস্টিং ইনসুলিন, লিপিড প্রোফাইল, ওজিটিটি (শর্করা ও ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা)। এই সব পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, দাগ শুধু ত্বকের নয়, এর পেছনে শরীরের ভিতরের মেটাবলিক সমস্যা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়ের কালো দাগকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এটি শরীরের গুরুতর রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। যদি সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।