বলিউডের ইতিহাসে কালজয়ী গানের তালিকায় একেবারে ওপরের দিকে রয়েছে‘দম মারো দম’।  একদিকে জিনাত আমানের মাদকতাময় উপস্থিতি আর আশা ভোঁসলের মায়াবী কণ্ঠ-এই দুইয়ের রসায়নে ১৯৭১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’ ছবির গানটি আজও সমান জনপ্রিয়। সম্প্রতি জিনাত আমান গানটি নিয়ে এক গোপন তথ্য সামনে এনেছেন। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এই কিংবদন্তি গানটি আদতে আশা ভোঁসলের গাওয়ার কথাই ছিল না!

সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে জিনাত আমান তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই গানটির নেপথ্য কাহিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সঙ্গীত পরিচালক আর ডি বর্মন গানটিকে প্রথমে একটি দ্বৈত গান হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনায় গানটি গাওয়ার কথা ছিল সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর এবং পপ-সম্রাজ্ঞী ঊষা উথুপের।

কেন পরিকল্পনা বদলে গেল? জিনাত জানান, রেকর্ডিংয়ের ঠিক আগে আর ডি বর্মন গানটির সুর ও মেজাজ নিয়ে নতুন করে ভাবেন। তাঁর মনে হয়েছিল, লতা মঙ্গেশকরের স্নিগ্ধ কণ্ঠ বা ঊষা উথুপের দরাজ কণ্ঠের চেয়েও এই গানে প্রয়োজন এমন এক কণ্ঠস্বর যা একইসঙ্গে আবেদনময়ী এবং বিদ্রোহী। তিনি বুঝতে পারেন, এই ‘সাসি’ ও ‘বোহেমিয়ান’ মেজাজটি একমাত্র আশা ভোঁসলের কণ্ঠেই যথাযথভাবে ফুটে উঠবে। এরপরই লতা-ঊষার বদলে একক শিল্পী হিসেবে গানটি রেকর্ড করেন আশা ভোঁসলে।

'দম মারো দম' নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জিনাত লেখেন, "আমার বয়স তখন মাত্র ১৯ বছর। আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলাম, কিছু একটা করে দেখাতে চাইছিলাম। আশা জি আমাকে আমার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি উপহার দিয়েছিলেন।" জিনাত স্বীকার করেন যে, আশা ভোঁসলের সেই অসামান্য কণ্ঠই তাঁকে পর্দায় একজন আধুনিক ও সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল। আজও যখনই কোথাও 'দম মারো দম' বাজে, দর্শকেরা জিনাত আমানকেই চোখের সামনে দেখতে পান।

সম্প্রতি আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করতে গিয়েই জিনাত এই পুরোনো স্মৃতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তিনি জানান, আর ডি বর্মনের সেই দিনের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত কীভাবে ভারতের সঙ্গীত ও সিনেমার ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। লতা মঙ্গেশকর বা ঊষা উথুপ গেয়ে থাকলেও হয়তো গানটি চমৎকার হতো, কিন্তু আশা ভোঁসলের সেই বিশেষ গায়কী ছাড়া ‘দম মারো দম’ যে অপূর্ণ মনে হতো, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এই গানটি আজ কেবল একটি হিট গান নয়, একইসঙ্গে বলিউডের ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে রয়ে গিয়েছে।