ভারতীয় সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বক্স অফিস সংঘর্ষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড়। অভিনেতা যশ-এর বহু প্রতীক্ষিত ছবি টক্সিক মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ায় কার্যত ভেস্তে গেল বহুল আলোচিত ‘ধুরক্সিক’ ক্ল্যাশ। ফলে এখন ১৯ মার্চ একাই প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব করতে চলেছে ‘ধুরন্ধর ২’।

বুধবার হঠাৎ করেই ‘টক্সিক’-এর নির্মাতারা ঘোষণা করেন, ছবির মুক্তি মার্চে হচ্ছে না। অভিনেতা ও সহ-প্রযোজক যশ এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে ছবির বিশ্বব্যাপী মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন মুক্তির দিন ঠিক হয়েছে ৪ জুন।

এই ঘোষণার পরই বদলে গেল পুরো বক্স অফিসের অঙ্ক। এতদিন পর্যন্ত ১৯ মার্চ একই দিনে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’ এবং রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২’-এর। ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই মেগা ছবির সংঘর্ষে ভারতের প্রায় ১০ হাজার স্ক্রিন ভাগাভাগি হয়ে যেত। অর্থাৎ প্রত্যেক ছবিই পেত সর্বোচ্চ ৪৫০০ থেকে ৫০০০ স্ক্রিন, যা এই মাপের ছবির জন্য তুলনামূলক কম।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। ‘টক্সিক’ সরে যাওয়ায় ‘ধুরন্ধর ২’ একাই দেশে প্রায় ৬০০০ স্ক্রিন পেতে পারে বলে ধারণা ট্রেড মহলের। ফলে ছবির দর্শক পৌঁছনোর পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনই বাড়তে পারে বক্স অফিস সংগ্রহও।

অনেকের মতে, এই ১৯ মার্চের সপ্তাহান্তই হতে পারত ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওপেনিং উইকেন্ডগুলির একটি। প্রবীণ ট্রেড বিশ্লেষকেরা বলছিলেন, এটা যেন ২০০১ সালের ‘গদর-এক প্রেম কথা’ বনাম ‘লগান’ ছবির সংঘর্ষের আধুনিক সংস্করণ। প্রাথমিক হিসেব বলছিল, দুই ছবি মিলিয়ে প্রথম তিন দিনে ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারত। আশাবাদীরা সেই অঙ্ক ৩০০ কোটিও বলছিলেন।

ধারণা ছিল, প্রথম সপ্তাহান্তে প্যান-ইন্ডিয়া আবেদন থাকায় ‘টক্সিক’ এগিয়ে থাকবে। কিন্তু সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে সমতা ফেরাতে পারত ‘ধুরন্ধর ২’, যেমনটা হয়েছিল তার প্রথম ছবির ক্ষেত্রেও।

তবে এখন সমীকরণ বদলে গেছে। ট্রেড সূত্রের মতে, যদি দুই ছবি একসঙ্গে মুক্তি পেত, তাহলে ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রথম সপ্তাহান্তে  আয় হতে পারত প্রায় ১২০–১৩০ কোটি টাকা। কিন্তু একক মুক্তির ফলে সেই অঙ্ক ২০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেই অনুমান। বিদেশের বাজার ধরলে ছবির ওপেনিং উইকেন্ডে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ যশ ছাড়াও রয়েছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদবানি, হুম কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত এবং তারা সুতারিয়া।

অন্যদিকে আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর ২’-এ আবারও দেখা যাবে রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি আর মাধবন, অর্জুন রামপাল এবং সঞ্জয় দত্ত-কে। ২০২৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল হওয়ায় ছবিটি ইতিমধ্যেই বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত মুক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—প্রতিদ্বন্দ্বী সরে যাওয়ার পর ‘ধুরন্ধর ২’ একাই কতটা বক্স অফিসে ঝড় তুলতে পারবে?