বলিউপাড়ার ‘মিনিস্ট্রি অফ উইট’ বলা হয় তাঁকে। নয়ের দশকে তাঁর লেট-নাইট টক শো ‘মুভার্স অ্যান্ড শেকার্স’-এ তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বদের সঞ্চালক হিসেবে ঘাম ছুটিয়ে দিতেন শেখর সুমন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সোনালী দিনের স্মৃতি হাতড়ালেন এই প্রবীণ অভিনেতা। মনে করিয়ে দিলেন দস্যুরানি থেকে রাজনীতিক হওয়া ফুলন দেবীর সঙ্গে তাঁর সেই মজার অথচ রোমহর্ষক কথোপকথন।
ফুলন দেবী, যাঁর নামে এক সময় চম্বলের উপত্যকা কাঁপত, গোটা ভারত শিউরে উঠত তাঁর নাম শুনে। যাঁর জীবনের গল্প নিয়ে শেখর কাপুর বানিয়েছিলেন কালজয়ী ছবি ‘ব্যান্ডিট কুইন’। সেই ফুলন দেবী যখন শেখর সুমনের স্টুডিওতে আসেন, তখন ঘটেছিল এক অদ্ভুত ঘটনা। ফুলন দেবী জানিয়েছিলেন তিনি শেখর সুমনকে ভয় পান! আর ভয় পাওয়ার কারণও খোলাখুলি জানিয়ে ছিলেন দস্যুরানি। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গে শেখর বলেন,“ফুলন দেবী যখন আমার সামনে এসে সোফায় বসলেন, দেখলাম তাঁর পা মাটি পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। আমি সুযোগ বুঝে রসিকতা করে জিজ্ঞেস করলাম— আপনার পা মাটিতে ঠেকে না, অথচ আপনি ঘোড়ায় চড়ে এক হাতে রাইফেল নিয়ে দস্যুপনা করতেন! আপনি তো সত্যিকারের দস্যুরানি!”
শেখর আরও জানান, ফুলন দেবী তাঁর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলেন। তখন অভিনেতা তাঁকে সোজাসাপটা প্রশ্ন করেন, “আপনি তো জীবনে কত মানুষকে গুলি করেছেন, আপনি কি কাউকে ভয় পান না?” উত্তরে ফুলন দেবী হেসে ফেলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি তোমাকেই ভয় পাই, কারণ তুমি তোমার ধারালো প্রশ্ন দিয়ে আমাকে বিঁধে ফেলতে পারো!”
ফুলন দেবী ছাড়াও মহারাষ্ট্রের দাপুটে নেতা প্রয়াত বাল ঠাকরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারের স্মৃতিচারণ করেন শেখর সুমন। অভিনেতা জানান, বাল সাহেব নিজে ফোন করে শেখরের শো-এর প্রশংসা করেছিলেন। সেই সুযোগে শেখর তাঁকে সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এরপর সেই সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর বাল ঠাকরে এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তিনি তৎক্ষণাৎ আরও একটি পর্ব শুট করার প্রস্তাব দেন। শেখর যখন জানান যে তাঁদের কাছে বদলে নেওয়ার মতো অন্য কোনও পোশাক নেই, বাল সাহেব হেসে বলেছিলেন, “এই পোশাকেই হবে, চলো শুরু করি!” শেখর জানান, তাঁর কেরিয়ারে এটি অন্যতম এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রয়ে গিয়েছে আজও।
শেখর সুমনের এই স্মৃতিচারণ প্রমাণ করে যে, বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতা আর সাহস থাকলে যে কোনও কঠিন ব্যক্তিত্বকেও আপন করে নেওয়া যায়।















