বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান তাঁর নিখুঁত অভিনয়ের জন্য যেমন পরিচিত, তেমনই তাঁর স্পষ্টবাদিতাও বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসে। সম্প্রতি ‘আপ কি আদালত’-এ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বক্স অফিসের কয়েক কোটি টাকার চেয়েও তাঁর কাছে জাতীয় পতাকা এবং সংগীতের মর্যাদা অনেক বেশি। ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলা সিনেমা ‘দঙ্গল’ কেন পাকিস্তানে মুক্তি পায়নি, তার নেপথ্যে থাকা এক রুদ্ধশ্বাস সত্য এবার প্রকাশ্যে এল।


আমির খান জানান, ‘দঙ্গল’ মুক্তির সময় পাকিস্তানের সেন্সর বোর্ড একটি অভাবনীয় দাবি পেশ করেছিল। ছবির যে অংশে গীতা ফোগাটের স্বর্ণপদক জয়ের পর ভারতের জাতীয় সঙ্গীত (জন-গণ-মন) বাজে এবং জাতীয় পতাকা (তেরঙা) উত্তোলন করা হয়, সেই দৃশ্যটি ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল তারা।

আমিরের ভাষায়, “ডিজনি যখন আমাকে সেন্সর বোর্ডের এই দাবির কথা জানায়, তখন তারা ব্যবসার ক্ষতির কথা ভেবে কিছুটা চিন্তিত ছিল। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত নিতে এক সেকেন্ডও সময় লাগেনি। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম, যে দেশে আমার দেশের জাতীয় পতাকা এবং সঙ্গীতের সম্মান নেই, সেই দেশে এই সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কোটি টাকার ব্যবসার চেয়ে আমার জাতীয় পতাকার মর্যাদা অনেক বড়।”

 

 

আমির খানের এই পুরনো বক্তব্যের রেশ ধরে বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিটিও ফিরে দেখা জরুরি।  পহেলগাঁওয়ের বৈসরন  উপত্যকায় পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় ২৬ জন নিরীহ ভারতীয় নাগরিকের প্রাণ হারান। এর পালটা জবাব হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। বীর জওয়ানদের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে আমির খান বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই এই জয় সম্ভব হয়েছে।”


সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

ওটিটি ও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম: ভারতের কোনও স্ট্রিমিং অ্যাপে এখন থেকে পাকিস্তানি সিনেমা, গান বা ওয়েব সিরিজ চালানো যাবে না।

সোশ্যাল মিডিয়া: পাকিস্তানি তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ভারতে নিষিদ্ধ (ব্যান) করা হয়েছে।

পডকাস্ট ও মিউজিক: পাকিস্তানি শিল্পীদের তৈরি যে কোনও অডিও কন্টেন্টের ওপর জারি হয়েছে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা।


আমির খানের এই সাহসী পদক্ষেপ এবং বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান তখনই সম্ভব যখন দেশের অখণ্ডতা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে। ‘দঙ্গল’ মুক্তির সময় আমির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ভারত আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—সীমান্তে রক্ত আর রুপালি পর্দায় বন্ধুত্ব, এই দুই সমীকরণ একসঙ্গে চলতে পারে না।