আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনুষ্কা শর্মা এবং দীপিকা পাড়ুকোন— দু’জনেই বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী। একজন চুটিয়ে সংসার করছেন ক্রিকেট সম্রাট বিরাট কোহলির সঙ্গে, অন্যজন রণবীর সিংয়ের হাত ধরে মাতৃত্ব উপভোগ করছেন। কিন্তু আজ থেকে এক দশক আগে, ২০১২ সাল নাগাদ বলিপাড়ার সমীকরণটা এতটাও মধুর ছিল না। তখন বক্স অফিস থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনী দুনিয়া— সবেতেই একে অপরকে টেক্কা দিতে লড়ছিলেন এই দুই উঠতি তারকা।
সেই সময় দীপিকা বনাম অনুষ্কার ঠান্ডা লড়াই বা ‘ক্যাটফাইট’ বিনোদন জগতের হেডলাইনে রোজ জায়গা করে নিত। আর সেই সময়ই এক সাক্ষাৎকারে দীপিকাকে নিশানা করে আক্ষরিক অর্থেই বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছিলেন অনুষ্কা শর্মা। যা আজও বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত সাক্ষাৎকার হিসেবে গণ্য করা হয়।
সেই সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুষ্কা বলেছিলেন, “দীপিকার সঙ্গে আমার কোনও তুলনাই চলে না। আমাদের মধ্যে কোনও মিল নেই। আমরা দুজনে সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের সিনেমা করি। সত্যি বলতে, ও আমার চেয়ে অনেক বেশি সিনেমা করেছে। আমি বরাবরই খুব চুজি। বাছাই করে কাজ করি। আমার কাছে যা রোল এসেছে, আমি অন্ধের মতো সব লুফে নিইনি।”
এখানেই শেষ নয়, সেই সময় বলিপাড়ায় রটে গিয়েছিল যে দীপিকা পাড়ুকোনের হাত থেকে বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী চুক্তি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অনুষ্কা নাকি নিজের পারিশ্রমিক বা ফি এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দিয়েছেন! এই অভিযোগে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে অনুষ্কা সাফ জানান, “আমার এই কাজ করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমার ঝুলিতে যথেষ্ট ব্র্যান্ড আছে। এবং প্রতিটি ব্র্যান্ডই আমার সঙ্গে চুক্তি নবীকরণ করেছে, কেউ কেউ তো তিনবার! আমার মনে হয় না অন্য কোনও নায়িকার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে। আমি নিশ্চয়ই কিছু ঠিক করছি... আমি যা দিতে পারি, তা শুধু আমিই পারি।”
রণবীর কাপুর ও দীপিকা পাড়ুকোনের কেরিয়ারের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’। শোনা যায়, অয়ন মুখোপাধ্যায়ের এই ছবির জন্য নাকি প্রথমে অনুষ্কাকে ভাবা হয়েছিল, যা পরে দীপিকার ঝুলিতে যায়।
এই প্রসঙ্গে অনুষ্কা এক অদ্ভুত রহস্যোদ্ঘাটন করেন। তিনি বলেন, “দীপিকার এক বন্ধু ফোন করে সংবাদমাধ্যমে বলেছিল যে ছবিটা অনুষ্কা নয়, দীপিকা করছে। আমার ‘বন্ধুরা’ তো কাউকে এভাবে ফোন করে বেড়ায় না, তাই না? আমি অনুরাগ কাশ্যপ আর রাজকুমার হিরানির মতো পরিচালকদের প্রথম পছন্দ। ও (দীপিকা) অয়ন বা অন্য কারোর পছন্দ হতে পারে। আমি কখনও কাউকে নীচে নামানোর চেষ্টা করি না। সেটাই তো আমাকে ভাল মানুষ প্রমাণ করে, তাই না?”
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলা এই নোংরা রাজনীতি নিয়ে সরাসরি দীপিকা এবং তাঁর টিমকে নিশানা করে অনুষ্কা শেষমেশ বলেন, “আমার দিকে নোংরা ছোঁড়া বন্ধ করো, কারণ আমি তোমাদের দিকে নোংরা ছুঁড়ি না। আমরা মুখে নিজেদের খুব ‘কুল’ বলি, কিন্তু আসলে আমরা একেবারেই তা নই। আমি বলছি না যে আমি অমুকের চেয়ে ভাল বা খারাপ। আমি নিজে একটা অত্যন্ত ভাল জায়গায় আছি। কেউ আমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলে আমার থেকে সেই জায়গা কেড়ে নিতে পারবে না।”
যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই অভিনেত্রীর সম্পর্কের বরফ গলেছে। বহুবার তাঁরা জনসমক্ষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছেন এবং সমস্ত ঝামেলার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে অতীতের এই ‘লঙ্কা কাণ্ড’ যে বলিপাড়ার গ্ল্যামারের পেছনের নগ্ন প্রতিযোগিতাকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য!















