বলিউডের ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ খ্যাত অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীকে আমরা বরাবরই তাঁর ফিটনেস এবং গ্ল্যামারের জন্য চিনি। কিন্তু সম্প্রতি বারাণসীর (কাশী) বিখ্যাত লস্যি খেতে গিয়ে এক চরম ট্রোলিংয়ের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী। ক্যামেরার সামনে বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী ঘন, ঠান্ডা লস্যির গ্লাসে চুমুক দিয়ে জমিয়ে প্রচার করলেন, অথচ ক্যামেরা বন্ধ হতেই নাকি ভোলবদল! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছোট্ট ক্লিপকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল নেটপাড়া।

নেটিজেনদের একাংশ একে ‘বলিউডের দ্বিচারিতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সত্যিই কি ভাগ্যশ্রী লস্যি ফেলে দিয়েছিলেন না কি পুরো বিষয়টাই সস্তার এডিটিংয়ের কারসাজি?

বারাণসীর এক স্থানীয় লস্যির দোকানে প্রচার ভিডিওর শুটিং করছিলেন ভাগ্যশ্রী। ক্যামেরার সামনে ঐতিহ্যবাহী মাটির ভাঁড়ে লস্যি উপভোগ করার দৃশ্যটি বেশ সুন্দরভাবেই শুট করা হয়। কিন্তু গণ্ডগোল পাকাল শুটিং শেষ হওয়ার পরের একটি দৃশ্য।

ভাইরাল হওয়া মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ক্লিপে দাবি করা হয়, ক্যামেরা বন্ধ হতেই ভাগ্যশ্রী নাকি সেই লস্যি খেতে অস্বীকার করেন এবং বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “এতে প্রচুর চিনি আর ফ্যাট আছে।” ব্যস! এই ভিডিওটি এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে আসতেই ট্রোলাররা ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিনেত্রীর ওপর। অনেকেই বলতে শুরু করেন, “ক্যামেরার সামনে লোকদেখানো ভালবাসা আর পেছনে আসল রূপ”।

বিতর্ক যখন দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে, তখনই আসরে নামে ভাগ্যশ্রীর টিম এবং স্বয়ং অভিনেত্রী। টিম স্পষ্ট জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অত্যন্ত সুচতুরভাবে এডিট করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ প্রসঙ্গ বহির্ভূতভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। ভাগ্যশ্রী বারাণসীর লস্যি সংস্কৃতিকে মন থেকেই প্রচার করছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলারদের সরাসরি ধমক দিয়ে ভাগ্যশ্রী প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আপনারা কি ওখানে উপস্থিত ছিলেন?”। 

অভিনেত্রী জানান, কে কী খাবেন বা খাবেন না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। তিনি আরও যোগ করেন, মিষ্টি লস্যি হয়তো ডায়াবেটিক রোগী বা সবার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত নাও হতে পারে, কিন্তু তাই বলে এই ঐতিহ্যবাহী পানীয়র ‘রিফ্রেশিং’ ও ‘হাইড্রেটিং’ গুণকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। তিনি বারাণসীর স্থানীয় স্বাদ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, বর্তমানের রিলস বা শর্ট ভিডিওর যুগে কীভাবে কোনো ঘটনার একটা ছোট অংশ কেটে পুরো গল্পটাকে বদলে দেওয়া যায়। পুরো সত্য না জেনে সেলিব্রিটিদের ট্রোল করার যে হিড়িক সমাজমাধ্যমে তৈরি হয়েছে, ভাগ্যশ্রীর এই ‘লস্যি বিতর্ক’ যেন তারই এক নতুন উদাহরণ।
বিতর্ক যাই হোক, ভাগ্যশ্রীর এই সফরের হাত ধরে বারাণসীর বিখ্যাত লস্যি যে আরও একবার বলিউডের স্পটলাইটে চলে এল, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য!