বিরাট কোহলি আর অনুষ্কা শর্মা অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে এসেছেন বৃন্দাবনে৷ বিরাট-অনুষ্কার বৃন্দাবন ভ্রমণের ভিডিয়ো ভাইরাল সমাজমাধ্যমে৷  তবে, ভিডিওগুলো আজকের না গতকালের, তা নিশ্চিত নয়।

 তারকা দম্পতিকে বৃন্দাবনে শ্রী প্রেমানন্দ গোবিন্দ শরণ জি মহারাজের কেলিকুঞ্জ আশ্রমে আশীর্বাদ নিতে দেখা গিয়েছে৷ 

প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তারকাদম্পতি৷ বিরাট ও অনুষ্কার কপালে তিলক লাগানো রয়েছে। এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার বিরাট অনুষ্কা এই আশ্রমে গিয়েছেন৷ 

রবিবার, বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মাকে বিমানবন্দরে দেখা যায়৷ বিমানবন্দরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ সেখানে বিরাটের দিকে অনুষ্কা প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন৷ এই ভিডিও দেখে নেটিজেনরা "এমন কাউকে খুঁজুন যে আপনার দিকে ঠিক সেভাবে তাকায়, যেভাবে অনুষ্কা বিরাটের দিকে তাকায়" -এমন পোস্ট করেছেন৷ 

কয়েকদিন আগে বিরাট কোহলিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল৷ বিতর্কের সূত্রপাত জার্মান ইনফ্লুয়েন্সার লিজল্যাজের একটি পোস্ট ঘিরে৷ লিজল্যাজের একটি ছবিতে বিরাট কোহলির ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে একটি ‘লাইক’ দেওয়া হয়৷ বিরাট কোহলির লাইক দেখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু। 

এই লাইক বিরাটের জায়গায় অন্য কোনও অ্যাকাউন্ট থেকে হলে কাকপক্ষীও টের পেত না৷ কিন্তু বিরাটের লাইক দেওয়া স্ক্রিনশট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়৷ 

এই লাইক বিরাট দিয়েছেন নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটি সেই বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷ বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন লিজল্যাজ।  তিনি বলেন, তিনি প্রথমে আনন্দিত হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ে  মাত্রাতিরিক্ত বড়াবাড়ি হচ্ছে দেখে অস্বস্তি বোধ করেন।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে লিজল্যাজ বলেন, “না, সত্যি বলতে ওর জন্য আমার একটু খারাপই লেগেছিল। ও যে এটা পছন্দ করেছে, তাতে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু পরে যখন ও এটা আনলাইক করল, তখন ওর জন্য আমার একটু খারাপ লেগেছিল। কারণ আমি জানিই না এটা কীভাবে এত বড় একটা খবর হয়ে গেল। মানুষ কীভাবে এটা খেয়াল করল, কীভাবে তারা এটাকে খবরে পরিণত করল? সম্ভবত এর পেছনে ওর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তবুও আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ এবং বিরাটের সমর্থনের প্রশংসা করি।”

লিজল্যাজ জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

লিজল্যাজ বলেন, “ব্যাপারটা ছিল অবিশ্বাস্য, কারণ আমি ঘুম থেকে ওঠার পর দেখি আমিই সব খবরের শিরোনামে। আমি জানিও না তিনি কখন ছবিটিতে লাইক দিয়েছেন, আমি খবরের মাধ্যমেই জানতে পারি। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমাকে নিয়ে লেখা আর্টিকেলগুলো বহু মানুষ খুঁজে পেয়ে আমার ডিএম-এ পাঠিয়েছে। আজ আমি অনেক মেসেজ পেয়েছি, মানুষজন এটা নিয়ে দারুণ উত্তেজিত ছিল।”

এই আলোচনার মধ্যেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রতি লিজল্যাজের সমর্থন প্রকাশ করা একটি পুরোনো ভিডিও পুনরায় প্রকাশ্যে এসেছে৷ 

লিজল্যাজ বলেন, “এটা স্পষ্টতই গত বছরের আইপিএল ছিল, তাই আমি আমার বেঙ্গালুরুর বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতে শুরু করি। খেলা দেখতে দেখতে আমিও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ভক্ত হয়ে উঠছিলাম। আর স্বাভাবিকভাবেই, আপনি যদি আরসিবি-কে সমর্থন করেন, তবে বিরাট কোহলিকে নিয়ে উন্মাদনা থাকবেই। তিনি সত্যিই অসাধারণ। তাই তিনি ছবিটি লাইক করায় আমি খুশি হয়েছিলাম।”

তবে বিরাট কোহলির সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়৷ ২০২৫ সালে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল, যখন তার অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার অবনীৎ কৌরের একটি ছবিতে লাইক দেওয়া হয়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল।

সেই সময় কোহলি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন," ফিড পরিষ্কার করার সময়, মনে হচ্ছে অ্যালগরিদম ভুলবশত একটি ইন্টারঅ্যাকশন নথিভুক্ত করে ফেলেছে। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমি অনুরোধ করছি যেন কোনো অপ্রয়োজনীয় অনুমান না করা হয়।"

এবারেও কি তেমন কিছুই বলবেন?  বিরাটের তরফে এখনও এই বিতর্ক নিয়ে কোনও।প্রতিক্রিয়া আসেনি।