এখন উজির ভুল ধারণা ভেঙেছে। সে একটু একটু করে বুঝতে পারছে ঋষি ব্যানার্জি আসলে ভাল মানুষ। তাকে কেউ ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। যদিও উজিথ ঋষিকে সমর্থন করার বিষয়টা কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না দিদি নিশা। নিত্য নতুন মোড়ে বেশ জমে উঠেছে জি বাংলার ধারাবাহিক 'জোয়ার ভাঁটা'। ক'দিন ধরেই আসল শত্রুদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে উজি ও ঋষি।
একসঙ্গে হাত মিলিয়েছে তারা। বেশ কয়েকদিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে ঋষি জানতে পারে বিল্ডিং ভেঙে পড়ার জন্য যে কন্সট্রাকশন কোম্পানি দায়ী, সেটার মালিক দূর্জয় ঘোষাল ও শঙ্খ চৌধুরী। উজিকে সেই কথা জানাতে সে বুঝতে পারে মিথ্যার জালে ঋষিকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছিল এতদিন।
তারা দু'জন পুলিশ অফিসার জিৎ-কে দিয়ে সবটা জানিয়ে দেয়। আর বাড়ি থেকে দূর্জয় ঘোষাল ও শঙ্খ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে জিৎ। কিন্তু ঋষির পাশে দাঁড়িয়ে উজির এই সত্যি উন্মোচন করাটা মোটেই ভাল চোখে দেখে না নিশা। সে এখনও পর্যন্ত তার দাদা ও বাবার খুনি হিসেবে ঋষিকেই সন্দেহ করে। মনে মনে এখনও ঋষির পরিবারকে শেষ করে দিতে চায়।
কিছুদিন আগে ধারাবাহিকের একটি প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক মুখোশ পরা ব্যক্তি একটি ঘরে রাখা ট্রলি ব্যাগ খুলছে। সেখান থেকে একটি ছবি পায়। সেই ছবিতে দুজন ব্যক্তি এবং দুজন মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। তবে মহিলা দুজনের মুখের কাছটা ছবিতে নষ্ট করা, ফলে তাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। এই ছবিটা নিয়ে এসে পুলিশ অফিসার ঋষিকে দেখান। জানতে চান তিনি ছবির দুই ব্যক্তিকে চিনতে পারছেন কিনা। জবাবে, ঋষি বলে, এটা তো হরিপ্রসাদ বাবু আর বিতান। তখন পুলিশ তাকে জানায় বিতান আসলে হরিপ্রসাদ বাবুর ছেলে, এবং এই হরিপ্রসাদও আর বেঁচে নেই।
এরপরই পুলিশ জানায়, হতে পারে ঋষি এবং তার পরিবারের উপর যে আঘাত হানা হচ্ছে তার নেপথ্যে হরিপ্রসাদ বাবুর দুই মেয়ে রয়েছে, যারা বর্তমানে নিখোঁজ। হয়তো বাবা এবং দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই সমস্ত কাজ ঘটাচ্ছে তারা। এই কথা শুনে যেমন একদিকে ঋষি চমকে ওঠে, তেমনই অন্যদিকে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁটা হয়ে যায় উজি। তার হাত থেকে পড়ে যায় চায়ের কাপ। এমন সময় নিশা এসে তাকে ধরে নেয়। তবে এবার কি ঋষি জেনে যাবে উজির আসল পরিচয়, জেনে যাবে বিতান ওর দাদা আর হরিপ্রসাদ বাবু বাবা? নতুন করে কি আবার ঘেঁটে যাবে উজি এবং ঋষির জীবন? নাকি নিশা চলবে নতুন কোনও চাল? উত্তর আগামীতে পর্বে পাওয়া যাবে।
