অ্যাটলির 'দীপিকা' চার্ম
পরিচালক অ্যাটলি তাঁর আসন্ন, আপাতত এএ২২Xএ৬ ( AA22 XA6) শিরোনামে পরিচিত নতুন প্রজেক্টটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই ছবির মাধ্যমেই প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করতে চলেছেন অ্যাটলি ও আল্লু অর্জুন। পাশাপাশি, 'জওয়ান'-এর পর এটি হবে দীপিকা পাডুকোনের সঙ্গে অ্যাটলির দ্বিতীয় ' ছবি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।যদিও ছবির কাহিনি ও চরিত্র সংক্রান্ত বিস্তারিত এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই প্রজেক্টকে অ্যাটলির কেরিয়ারের অন্যতম বড় কাজ বলে ধরা হচ্ছে। ভিজ্যুয়াল স্কেল, তারকাসমাবেশ এবং নতুন কম্বিনেশনের জেরে ছবিটি ইতিমধ্যেই কৌতূহলের কেন্দ্রে।
দীপিকার সঙ্গে আবার কাজ করা প্রসঙ্গে অকপট প্রশংসা শোনা গেল অ্যাটলির কণ্ঠে। অভিনেত্রীকে নিজের ‘লাকি চার্ম’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“হ্যাঁ, ও আমার লাকি চার্ম। দীপিকার সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় ছবি। ওর সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। ও সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
এই মন্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁদের পেশাদার বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক আস্থা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়,এএ২২Xএ৬ হতে চলেছে মাতৃত্ব গ্রহণের পর দীপিকা পাডুকোনের প্রথম ছবি। এই নতুন অধ্যায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অ্যাটলি বলেন,“মাতৃত্বের পর ও এই ছবিটা শুরু করছে। দর্শক এবার একেবারে আলাদা দীপিকাকে দেখবে, এটা আমি নিশ্চিত।”
যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি, তবু এই মন্তব্য থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, নতুন কোনও স্ক্রিন ইমেজ, আগের সব চরিত্র ছাপিয়ে যাওয়া এক ভিন্ন দীপিকার দেখা মিলতে চলেছে কি না।
সব মিলিয়ে, অ্যাটলি–আল্লু অর্জুন–দীপিকা এই ত্রিমুখী সমীকরণ ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পর্দায় ঠিক কী চমক অপেক্ষা করছে, তার উত্তর সময়ই দেবে, তবে প্রত্যাশার পারদ যে ইতিমধ্যেই বেশ উঁচুতে, তা বলাই বাহুল্য।
রিচার নয়া পদক্ষেপ
অভিনয় আর প্রযোজনার গণ্ডি পেরিয়ে এবার একেবারে নতুন সৃজনশীল পথে পা রাখতে চলেছেন রিচা চাড্ডা। ভারতের মানুষ, জায়গা আর জীবনের গল্পকে সামনে রেখে তিনি আনতে চলেছেন একটি নন-ফিকশন ট্র্যাভেল ও কালচারাল সিরিজ, যেখানে থাকবে ভ্রমণ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর বাস্তব জীবনের ছোঁয়া।গভীরতা ও উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ বেছে নেওয়ার জন্য পরিচিত রিচা এবার কল্পনার জগৎ ছেড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার দিকে নজর ফেরাচ্ছেন। এই সিরিজে ভারতের বা তাঁর ভাষায় ‘ভারত’-এর বহুরঙা সংস্কৃতি, লোকাচার, সম্প্রদায় ও মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসবে একেবারে কাছ থেকে। একজন গল্পকার হিসেবে রিচার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণই এই সিরিজের মূল শক্তি হতে চলেছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে নন-ফিকশন জগতে প্রথমবার ক্রিয়েটর ও প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন রিচা চাড্ডা। এর মধ্য দিয়ে তাঁর ক্রমবিকশিত বহুমাত্রিক সৃজনশীল সত্তার আরেকটি নতুন অধ্যায় খুলছে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।

উল্লেখ্য, সাহসী, সৎ এবং প্রশ্ন তুলতে ভালোবাসে, এমন গল্পের পাশে বরাবরই দাঁড়িয়েছেন রিচা। তাঁর প্রযোজনায় প্রথম ছবি গার্লস উইল বি গার্লস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল এবং স্পষ্ট করে দিয়েছিল, প্রযোজক হিসেবে তিনি কোন ধরনের গল্প বলতে চান। নতুন এই নন-ফিকশন সিরিজে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও বিস্তৃত করতে চান তিনি। ফরম্যাটে নতুনত্ব এনে, কিন্তু কনটেন্টে অর্থবহতা বজায় রেখে।
দিলজিৎ-এ-বিশ্বাস
‘বর্ডার ২’-এর সাফল্য থেকে নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে ‘ইতিবাচকতা’-কেই তুলে ধরলেন ভূষণ কুমার। টি-সিরিজ প্রযোজিত এই যুদ্ধনির্ভর ছবি মুক্তির মাত্র চার দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ২৫০ কোটির বেশি ব্যবসা করে বক্স অফিসে দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছে। এই সাফল্যের মাঝেই একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্ডার ২-এর যাত্রাপথ, বিতর্ক এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখ খুললেন ভূষণ।জেপি দত্ত পরিচালিত ১৯৯৭ সালের কাল্ট ক্লাসিক বর্ডার-এর সিক্যুয়েল এই ছবি। মূল ছবির মুখ সানি দেওলকে ফিরিয়ে এনে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিন নতুন প্রজন্মের তিন তারকা-বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং আহান শেট্টি। তবে ছবির নির্মাণপর্ব মোটেই মসৃণ ছিল না।
ছবি তৈরির সময়ই সামাজিক মাধ্যমে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। কৃষক আন্দোলন নিয়ে তাঁর পুরনো মন্তব্য এবং ‘সর্দারজি ৩’-এ পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে কাজ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সমালোচনা। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উত্তপ্ত থাকার সময়ে একজন পাকিস্তানি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে দিলজিতকে তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। প্রতিবাদের জেরে ‘সর্দারজি ৩’ ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। এই বিতর্কের রেশ এসে পড়ে ‘বর্ডার ২’-এর উপরেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ দিলজিতকে ‘যুদ্ধনায়ক’-এর চরিত্রে দেখার বিরোধিতা করে, এমনকী, তাঁকে ছবিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও ওঠে। যদিও নির্মাতারা স্পষ্ট করেন, হানিয়া আমিরকে ছবিতে নেওয়া হয়েছিল সীমান্ত উত্তেজনার অনেক আগেই।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে ভূষণ কুমার বলেন,“একেবারে শুরু থেকেই আমরা জানতাম, এই ছবিতে সানি স্যর থাকবেন। ওঁকে ছাড়া ‘বর্ডার ২ ভাবাই যায় না। তারপর পরিচালক অনুরাগ সিং বললেন, দিলজিৎ এই ছবির জন্য একদম পারফেক্ট, বরুণকে দরকার, আর আহান এই চরিত্রটা করবে। আমরা ভাগ্যবান যে সবাই রাজি হয়েছিল। ছবির কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার পর এই চাপটা আসে। কিন্তু যদি ট্রোলদের চাপে পড়ে আমাদের মতো একটা প্রোডাকশন হাউস অভিনেতা বদলাতে শুরু করে, তাহলে সিনেমা বানানোই উচিত নয়।”
