প্রয়াত মধু মালহোত্রা
সাত ও আটের দশকের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা আর নেই। মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
হিন্দি ছবির দর্শকদের কাছে মধু মালহোত্রা ছিলেন এক পরিচিত মুখ। বড় নায়িকার ভূমিকায় তাঁকে খুব বেশি দেখা না গেলেও, সহ-অভিনেত্রী বা পার্শ্বচরিত্রে তাঁর উপস্থিতি বহু ছবিতেই নজর কেড়েছে। বিভিন্ন ছবিতে ছোট হলেও স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি।দীর্ঘ কেরিয়ারে নানা ঘরানার ছবিতে কাজ করেছেন মধু মালহোত্রা। কখনও পারিবারিক গল্প, কখনও আবার বাণিজ্যিক মসলা ছবির অংশ হয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য অমিতাভ বচ্চন-হেমা মালিনী অভিনীত 'সত্তে পে সত্তা' ছবিটি।
অনিলের আফসোস
অনিল কাপুর সম্প্রতি জানালেন, ধুরন্ধর ২ ছবিতে একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে পেশাগত ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। অনিল জানান, ‘ধুরন্ধর’ ছবির দ্বিতীয় পর্বে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁকে যোগাযোগ করেছিলেন পরিচালক আদিত্য ধর।
অভিনেতার কথায়, “হ্যাঁ, আদিত্য আমার সঙ্গে ‘ধুরন্ধর ২’-এর জন্য কথা বলেছিল। ছবিতে একটি ছোট ক্যামিও চরিত্র করতে চেয়েছিল আমাকে। কিন্তু আজ আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, তার বড় কারণ আমার পেশাদারিত্ব এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না,কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” কেন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হল, সে প্রসঙ্গেও খোলাখুলি ব্যাখ্যা দেন ৬৯ বছরের এই অভিনেতা। তাঁর কথায়, তখন তিনি ইতিমধ্যেই অন্য এক পরিচালকের ছবির জন্য নির্দিষ্ট সময় বা ‘ডেট’ দিয়ে ফেলেছিলেন।
অনিল কাপুর বলেন, “সেই সময় আমি আরেকজন পরিচালকের সঙ্গে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলেছিলাম। তাই আদিত্যকে বলেছিলাম, এই ক্যামিওটা করতে আমার খুবই ইচ্ছে ছিল, কিন্তু আমার কাছে তো এইমুহূর্তে কোনও ডেট ফাঁকা নেই।”তবে সুযোগ হাতছাড়া হলেও তাতে খুব একটা আক্ষেপ নেই বলেই জানান তিনি। বরং ভবিষ্যতে আদিত্য ধরের সঙ্গে কাজ করার আশাই রাখছেন অনিল কাপুর।
অজানা আমির
২০০১ সালের ঐতিহাসিক ছবি লগান আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সেই ছবির মুক্তির প্রায় পঁচিশ বছর পর আবারও পুরনো স্মৃতিতে ফিরে গেলেন অভিনেতা আমির খান। সম্প্রতি মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত রেড লোরি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ ‘লগান’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে হাজির হয়ে শুটিংয়ের দিনগুলোর নানা অজানা গল্প শোনালেন তিনি।অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে আমির খান জানান, ছবির শুটিং চলাকালীন প্রতিদিনের শুরুটা হতো এক বিশেষ রীতি মেনে। সেটে যাওয়ার পথে বাসে করে যাত্রার সময় তাঁরা শুনতেন গায়ত্রী মন্ত্র।
এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ছবিতে অর্জুনের চরিত্রে অভিনয় করা অখিলেন্দ্র মিশ্র প্রায় প্রতিদিনই বাসে গায়ত্রী মন্ত্র চালাতেন। যদিও অনেকেই সেই সময় ইংরেজি গান শুনতে চাইতেন, কিন্তু আমিরই নাকি জোর দিয়েছিলেন মন্ত্র শোনার পক্ষেই।আমিরের কথায়, “আমরা যখন বাসে করে শুটিং স্পটে যেতাম, তখন অখিলেন্দ্র মিশ্র গায়ত্রী মন্ত্র চালাতেন। অনেকেই ইংরেজি গান শুনতে চাইত, কিন্তু আমি বলতাম আমরা গায়ত্রী মন্ত্রই শুনব। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন শুটিংয়ে যাওয়ার আগে আমরা এই মন্ত্র শুনতাম।”
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন এই মন্ত্র শোনার ফলে গোটা ইউনিট যেন এক ধরণের ধ্যানমগ্ন মানসিক অবস্থায় পৌঁছে যেত। ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগেই তাঁরা বাসে চেপে সেটের দিকে রওনা দিতেন, চারদিকে অন্ধকার থাকত, সেই পরিবেশে গায়ত্রী মন্ত্র শুনতে শুনতেই তাঁরা নিজেদের কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেন।
