‘কর্পূর’-এ বাম আমলের এক নেতার ছায়ায় তৈরি চরিত্রে অভিনয় করে ইতিমধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছিলেন কুণাল ঘোষ। এবার ফের বড়পর্দায় ফিরছেন তিনি। তবে একেবারে ভিন্ন অবতারে। রাজনৈতিক নেতার চরিত্র ছেড়ে এবার তিনি হাজির হচ্ছেন এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়।
পরিচালক দুলাল দে-এর নতুন ছবি ‘ফাঁদ’-এ। ফুটবল, রাজনীতি, প্রেম -এই তিন স্রোত মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে ছবির গল্প। নির্মাতাদের মতে, এটিকে একদিকে যেমন রাজনৈতিক থ্রিলার বলা যায়, তেমনই এটি এক সামাজিক নাটকও। কারণ ছবির গল্প ছড়িয়ে রয়েছে তিন প্রজন্ম জুড়ে।
শুধু রাজ্য রাজনীতির বড় মঞ্চই নয়, বরং পাড়া, গলি, ওয়ার্ড—এই ছোট ছোট সামাজিক বাস্তবতার ভেতরেই তৈরি হয়েছে ছবির আবহ। ফলে ‘ফাঁদ’ আসলে আজকের সমাজেরই এক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে চাইছে যেখানে রাজনীতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ক্ষমতার টানাপোড়েন এক অদ্ভুত জটিলতায় জড়িয়ে থাকে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের নতুন চরিত্রের লুক প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “এআই নয়, নতুন সিনেমার লুক। পরিচালক দুলাল দে-র ‘ফাঁদ’। ‘কর্পূর’ এবং ‘শেকড়’-এ রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয়ের পর এবার পুলিশ অফিসার।” তিনি আরও জানান, শনিবার লেক গার্ডেন্সের একটি স্টুডিওতে এই লুক সেট করা হয়েছে।

ছবির অভিনয় তালিকাও যথেষ্ট শক্তিশালী। ‘ফাঁদ’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনির্বাণ চক্রবর্তী, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, আর জে সায়ন, অর্জুন চক্রবর্তী, ঈশা সাহা, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, এর আগে ‘অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন দুলাল দে। পরিচালনায় আসার আগে দীর্ঘদিন তিনি গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দেব অভিনীত ‘গোলন্দাজ’-এর মতো পিরিয়ডিক্যাল ড্রামার চিত্রনাট্য তাঁরই লেখা।
&t=371s
সব মিলিয়ে ‘ফাঁদ’ ছবিটি শুধু একটি রাজনৈতিক থ্রিলারই নয়, বরং সময়ের সমাজবাস্তবতার নানা স্তরকে একসঙ্গে ধরতে চাওয়া এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার, বড়পর্দায় এই গল্প দর্শকদের কতটা টানতে পারে। মার্চ মাসে কলকাতাতেই শুরু হবে ‘ফাঁদ’-এর শুটিং। কিন্তু তার আগেই ছবির ভাবনা দর্শকের মনে প্রশ্ন তুলে দেয়, আমরা যে সমাজে বাঁচি, সেখানে কে কাকে ব্যবহার করছে, কে কার ফাঁদে পা দিচ্ছে? এমন গল্প শেষ হয়, প্রশ্নগুলো থেকে যায়। পরিচালক আজকাল ডট ইন-কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ ‘ফাঁদ’ রাজনৈতিক ছবি নয়, সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের এক গভীর, আত্মকথা”
