বলিউডে সাহসী দৃশ্যে, ঘনিষ্ঠ সব দৃশ্যে অভিনয় করার পর থেকেই অনেকের চোখে বদলে গিয়েছিল তাঁর পরিচয়। দীর্ঘদিনের সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার খোলাখুলি কথা বললেন অভিনেত্রী জারিন খান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, হেট স্টোরি থ্রি ছবিতে অভিনয়ের পর ইন্ডাস্ট্রির একাংশ তাঁর অভিনয় দক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। এমনকী কেউ কেউ সরাসরি কটাক্ষ করেছিলেন, অভিনয় পারেন না বলেই নাকি সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের পথ বেছে নিয়েছেন জারিন।
২০১০ সালে সলমন খান-এর বিপরীতে বীর ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল জরিন খানের। পরে হাউজফুল ২ এবং হেট্ স্টোরি থ্রি -এর মতো ছবিতে দেখা যায় তাঁকে, যেগুলো বক্স অফিসেও ভাল সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু তাঁর কথায়, ‘হেট স্টোরি থ্রি’-এর সাহসী দৃশ্যই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নানা কটাক্ষের মুখে ফেলেছিল।
অভিনেত্রী সম্প্রতি পূজা ভাটের পডকাস্টে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, ছবিটি মুক্তির পর বলিউডের অনেকেই তাঁকে অবজ্ঞার চোখে দেখতে শুরু করেছিলেন। জরিনের কথায়, “অনেকেই বলত, 'ও তো অভিনয় পারে না, তাই পোশাক খুলতে শুরু করেছে।”
‘হেট স্টোরি ৩’-এর সাফল্যের পর জরিনের কাছে আসে অকসর ২ ছবির প্রস্তাব। ২০০৬ সালের অকসর ছবির সিক্যুয়েলটি পরিচালনা করেছিলেন অনন্ত মহাদেবন। জরিনের দাবি, প্রথমে তাঁকে ছবিটি এক ধরনের ‘নোয়ার থ্রিলার’ হিসেবে বোঝানো হয়েছিল, যার সঙ্গে ‘হেট স্টোরি’-র ধাঁচের কোনও মিল নেই বলেই বলা হয়েছিল।
কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পরই নাকি ছবির বিষয়টাই বদলে যেতে থাকে। অভিনেত্রীর কথায়, প্রায় প্রতিটি দৃশ্যের শেষে হঠাৎ করে চুম্বনের দৃশ্য বা জামাকাপড় খুলে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে আসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হচ্ছিল। জরিন আরও বলেন, “আমাকে খুব পরিশীলিত ইংরেজিতে গল্প শোনানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আমরা ‘হেট স্টোরি’-র মতো কিছু করছি না, বরং একটা নোয়ার ঘরানার ছবি বানাচ্ছি। কিন্তু সেটে গিয়ে দেখলাম প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই কখনও চুম্বন, কখনও আবার হঠাৎ ব্রা পরে হাজির হওয়ার মতো দৃশ্য রাখা হচ্ছে।”
তাঁর দাবি, সাহসী দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু যে গল্প শুনে তিনি ছবিতে রাজি হয়েছিলেন, বাস্তবে ছবির চরিত্রায়ন তার থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি স্পষ্ট বলেছিলাম, এই ধরনের দৃশ্য করতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে যে গল্প বলা হয়েছিল, সেটা তো সম্পূর্ণ অন্যরকম। শুধু একটা ছবি সফল হয়েছে বলেই সেই ফর্মুলা জোর করে বারবার ব্যবহার করা ঠিক নয়।”
শুটিং চলাকালীন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেছেন জরিন। তাঁর অভিযোগ, পরিচালক এক ধরনের গল্প প্রযোজকদের বলতেন, আরেকটি সংস্করণ শুনতেন তিনি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার শাহিদ আমির। আর এই দ্বন্দ্বের জেরেই নাকি সেটে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। জরিন বলেন, “প্রযোজকেরা হঠাৎ করে প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই আমাকে সাহসী পোশাক বা চুম্বনের দৃশ্য করতে বলতে শুরু করেন। শুধু আমি আগে একটি এমন ছবি করেছি বলেই এই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেটা মোটেও ঠিক নয়।”
তবে সব সমস্যার মধ্যেও ছবির কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কারণ, তাঁর মতে কোনও ছবির মাঝপথে সরে গেলে প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারত। জরিন বলেন, “আমি এমন কেউ নই যে অকারণে ঝামেলা তৈরি করি। আমি জানি, এখানে অনেক মানুষের টাকা জড়িত থাকে। তাই সব সময় আলোচনা করে একটা মাঝপথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে নিজের ছবির স্ক্রিনিংয়েও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, সেই সময় সংবাদমাধ্যমের একাংশে তাঁকে ‘কাজ করা কঠিন’ অভিনেত্রী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। জরিনের কথায়, “এমন অনেক খবর বেরিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল আমার সঙ্গে কাজ করা কঠিন। অথচ আজও আমার কাছে পরিচালকের এমন বার্তা রয়েছে যেখানে তিনি নিজেই প্রযোজকদের নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।”
অন্যদিকে এই অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছেন পরিচালক অনন্ত মহাদেবন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ছবির শুটিংয়ের আগে থেকেই প্রতিটি দৃশ্য অভিনেতাদের বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়েছিল এবং কোনও বিভ্রান্তির প্রশ্নই ওঠে না। সাহসী দৃশ্য নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে পরিচালক বলেন, “আজকাল প্রায় সব ছবিতেই চুম্বনের দৃশ্য থাকে। এমনকী, করণ জোহর-এর ছবিতেও। কয়েকটি চুম্বনের দৃশ্য থাকলেই কোনও ছবি অশালীন হয়ে যায় না। বরং ছবিটির গল্প এগিয়েছে জরিনের চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।” এরপর পরিচালকের দাবি, শুটিং এবং ডাবিংয়ের সময় জরিন ছবির ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট উচ্ছ্বসিতই ছিলেন। তাই পরে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তিনি যথেষ্ট অবাক-ই হয়েছেন।
তবে বিতর্ক যাই হোক, জরিন খানের সাম্প্রতিক এই খোলামেলা মন্তব্য আবারও বলিউডের অন্তরালের এক অস্বস্তিকর বাস্তবকে সামনে এনে দিল, যেখানে কখনও কখনও একটি ছবির সাফল্যই অভিনেতার উপর নতুন ধরনের প্রত্যাশা এবং চাপ তৈরি করে।
&t=371s
