আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিনেমা হল বা মাল্টিপ্লেক্স নয়, মাঠের উপর বসে ছবি দেখলেন শত শত মানুষ। ছবির নাম কাল্পনিক। পরিচালক অর্ক মুখোপাধ্যায়ের এই রাজনৈতিক ছবি হয়তো আটকে গেছে , কিন্তু মানুষের মনে যে সে কতটা গেঁথে গেছে, মিলল তার প্রমাণ। ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ তবুও যখন বৃষ্টি নামল আকাশ ভেঙে, লৌলাড়ার মাঠে এক আশ্চর্য দৃশ্য রচিত হল। মাল্টিপ্লেক্সের এসি নয়, সোফা নয়, বড় শহরের ঝাঁ চকচকে পর্দাও নয় ছিল শুধু একটা খোলা মাঠ, জল-কাদা মাখা মাটির গন্ধ, আর ৯৭০ জন মানুষ। রামানন্দ সেন্টিনারী কলেজের সেই মাঠে একসঙ্গে বসে ছবিটি দেখলেন সবাই
কেউ মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকলেন না। কেউ মাঝপথে উঠে পড়লেন না বিরক্ত হয়ে। কেউ ‘এটা তো রাজনীতি’ বলে পাশ কাটালেন না। বরং বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় নিয়ে, কাদায় বসেই তাঁরা নিঃশব্দে দেখলেন একটি ছবিটি।
তাহলে প্রশ্ন উঠবেই কেন?
কেন এত মানুষ এলেন একটা রাজনৈতিক ছবি দেখতে?
কেন তাঁরা গল্প শুনলেন, অনুভব করলেন, সাড়া দিলেন?
নির্মাতাদের কথায়, "সিনেমা যখন প্রকৃত অর্থে মানুষের কথা বলে, যখন তা আর বিনোদন নয়, বরং প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে — তখন সে পৌঁছে যায় দূরতম জনপদেও। লৌলাড়ার মানুষজন যেন বুঝে গিয়েছিলেন, “কাল্পনিক” শুধু একটা সিনেমা নয়, একটা সত্য, একটা কল্পনার মধ্যে দিয়ে সমাজকে দেখা।
পরিচালক অর্ক মুখার্জির কথায়, “বৈষম্য এবং বিভেদের গল্প বলে কাল্পনিক। কীভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভেদ সম্পর্কে প্রভাব ফেলে সেকথাও তুলে ধরা হয়েছে কাল্পনিক-এ।”
ছবির প্রধান অভিনেত্রী শতাক্ষী নন্দীর কথায়, “জোর গলায় বলছি, বাংলায় এরকম রাজনৈতিক-থ্রিলার ছবি আমরা অনেকদিন দেখিনি। আমার চরিত্রটি একজন সাংবাদিকের। ছবির চিত্রনাট্য শুনেই বেশ আগ্রহী হয়েছিলাম। আজ পর্যন্ত পর্দায় এমনভাবে কোনও পরিচালক আমাকে দেখাননি। তাই দর্শক কীভাবে আমাকে এই ছবির মাধ্যমে গ্রহণ করবেন, সেই ব্যাপারেও আগ্রহ বাড়ছে উত্তরোত্তর। অনেকের চেষ্টা, পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে এই ছবির সঙ্গে। ভীষণ সৎ প্রচেষ্টা এটুকু বলতে পারি।”
