হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ জসভীর কৌর। 'সিআইডি' ধারাবাহিকে ইনস্পেক্টর কাজলের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের জীবনের এক কঠিন সময় প্রকাশ্যে এনেছেন জসভীর। যা নিয়ে বেশ কৌতূহল চলছে অনুরাগীদের মনে।
এক সাক্ষাৎকারে জসভীর জানান, 'সিআইডি' থেকে হঠাৎ করে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই তাঁর জীবনে খুব কঠিন সময় নেমে এসেছিল। সেই ঘটনার ধাক্কায় তিনি টানা ৪৫ দিন ধরে কেঁদেছিলেন।
জসভীর জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দু'বছর ধরে নিয়মিতভাবে 'সিআইডি'-র শুটিং করছিলেন। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করতে হত এবং তিনি নিজের কাজ নিয়ে খুবই সিরিয়াস ছিলেন। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তাঁকে অফিসে ডেকে বলা হয় যে তিনি আর এই শো-এর অংশ থাকবেন না। এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।
অভিনেত্রীর দাবি, তাঁকে সরানোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যেমন তাঁর আচরণ নাকি ঠিক নয়, তিনি ঠিকভাবে চলাফেরা করেন না, এমনকী স্ক্রিপ্ট নিয়ে সমস্যা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। জসভীর বলেন, "এসব অভিযোগ শুনে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ আমি কখনও এমন কিছু করেননি।"
এই ঘটনার সময় তাঁর সহ-অভিনেতারা অন্তত পাশে দাঁড়াবেন আশা করেছিলেন জসভীর। কিন্তু তাঁর কথায়, কেউই প্রতিবাদ করেননি বা তাঁকে সমর্থন করেননি। এতে তিনি আরও বেশি ভেঙে পড়েন।
শো থেকে বাদ পড়ার পর তাঁর মানসিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। জসভীর জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস ধরে প্রতিদিন কাঁদতেন। তাঁর মা তাঁকে এভাবে কাঁদতে দেখে খুবই কষ্ট পেতেন। এই ঘটনার পরে তিনি কিছুদিন ডিপ্রেশনের মধ্যেও ভুগেছিলেন।
শুধু মানসিক নয়, পেশাগত জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। 'সিআইডি' ছাড়ার পর বেশ কয়েক বছর তাঁর হাতে তেমন বড় কাজ আসেনি। তিনি বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে ছোট ছোট ক্যামিও চরিত্র করে কোনওভাবে নিজের কেরিয়ার টিকিয়ে রেখেছিলেন। সেই সময় আর্থিক সমস্যাও ছিল। তবে এত সমস্যার মধ্যেও তিনি অভিনয় ছাড়েননি। ধীরে ধীরে আবার টেলিভিশনে কাজের সুযোগ পান এবং নতুন ধারাবাহিকে অভিনয় শুরু করেন।
জসভীর কৌরের এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে বিনোদন জগৎ বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে অনেক সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তা লুকিয়ে থাকে। অনেক অভিনেতাকেই কেরিয়ারের পথে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
