বলিউডের ‘ব্যাড বয়’ ইমেজ থাকলেও অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত-এর ব্যক্তিত্বের গভীরে যে এক সংবেদনশীল মানুষ লুকিয়ে আছে, আবারও তার প্রমাণ মিলল। সম্প্রতি পূজা ভাটের একটি সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 'সড়ক' ছবির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রীর কথায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। জানা গিয়েছে, নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় ছবির শুটিং চলাকালীন অভিনেত্রী পূজা ভাটকে পর্দায় চুম্বন করতে সাফ মানা করে দিয়েছিলেন সঞ্জয়।

আর এর পিছনে কারণ ছিল অবাক করার মতো! সঞ্জয় দত্ত এবং মহেশ ভাটের পরিবারের সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। মহেশ ভাটের প্রথম জীবনের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী সঞ্জয়। সেই সূত্রে মহেশের বড়মেয়ে পূজা যখন নেহাতই শিশু, তখন থেকেই তাকে কোলে-পিঠে করে বড় হতে দেখেছেন ‘সঞ্জু বাবা’। পূজা ছিল তাঁর কাছে ঘরের মেয়ের মতো।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯১ সালের সুপারহিট ছবি ‘সড়ক’-এর শুটিংয়ের সময়। ছবিতে সঞ্জয় ও পূজার রসায়ন দর্শককে মুগ্ধ করলেও, চিত্রনাট্যের দাবি মেনে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বা চুম্বনের দৃশ্য করার কথা ছিল। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত সেই প্রস্তাব শোনার পরই থমকে যান। তিনি সরাসরি পরিচালক মহেশ ভাটকে জানান যে, তিনি পূজাকে মোটেই চুম্বন করতে পারবেন না।

সঞ্জয়ের যুক্তি ছিল খুব সাধারণ অথচ অকাট্য। তিনি বলেছিলেন, "পূজা আমার চোখের সামনে বড় হয়েছে। আমি ওকে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। ওকে এই নজরে দেখা বা ওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য করা আমার পক্ষে অসম্ভব।" সঞ্জয়ের এই আপত্তির কথা শুনে মহেশ ভাটও অবাক হয়েছিলেন।

সঞ্জয়ের মুখে এমন কথা শুনে মহেশ ভাট তাঁকে 'ভণ্ডামি' না করার পরামর্শ দেন। তিনি সরাসরি সঞ্জয়কে বলেন যে এটি নেহাতই দ্বিচারিতা। মহেশ ভাটের যুক্তি ছিল, সঞ্জয় যদি তাঁর চেনা হওয়ার কারণে পুজাকে চুম্বন করতে না পারেন, তবে অন্য কোনও অভিনেত্রীকে কী করে করবেন? তিনিও তো কারওর মেয়ে! তাহলে কাউকে চুম্বন করার অধিকারও তাঁর নেই। অভিনেতা হিসেবে পর্দার চরিত্রের প্রয়োজনে ব্যক্তিগত আবেগ সরিয়ে রাখাটাই যে আসল কাজ, মহেশ ভাট সেদিন এই কড়া বার্তার মাধ্যমেই তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

বলিউডে যেখানে পেশাদারিত্বের খাতিরে অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সরিয়ে রাখেন, সেখানে সঞ্জয় দত্তের এই সিদ্ধান্ত আজও চর্চার বিষয়। পূজা ভাট নিজেও পরবর্তীকালে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সঞ্জয়ের এই ‘প্রটেক্টিভ’ স্বভাবের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সঞ্জয়‌ নাকি তাঁকে সবসময় নিজের ছোটবোনের মতোই আগলে রাখতেন।