বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার ককটেল এখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের নতুন ট্রেন্ড। আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন থেকে শুরু করে জাহ্নবী কাপুর, কিয়ারা আদবানি, বি-টাউনের প্রথম সারির নায়িকারা দলে দলে পা বাড়াচ্ছেন হায়দরাবাদের ফিল্ম সিটিতে। কিন্তু গ্ল্যামার আর কোটি টাকার অফারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক কুৎসিত রূপ এবার সামনে চলে এল। চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণী তারকা রাম চরণের ছবি ‘পেড্ডি’-তে জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রের মাত্রাতিরিক্ত ‘যৌনতাকরণ’ এবং আপত্তিকর চিত্রনাট্য নিয়ে এবার আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেল সোশ্যাল মিডিয়া।

বিতর্কের জল এতটাই দূর গড়িয়েছে যে, সম্প্রতি দক্ষিণের একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দাবি করেছে, “‘পেড্ডি’ ছবির এই মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের পর, এখন বলিউড অভিনেত্রীরা তেলেগু ছবিতে অভিনয় করতে ভয় পাচ্ছেন!”

প্রেক্ষাগৃহে পেড্ডি মুক্তির পর থেকেই এ ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের পরিচিতি দৃশ্যটি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন দর্শকরা। ছবিতে রাম চরণের চরিত্রটি যেভাবে জাহ্নবীর শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে, তা বর্তমান সময়ের নিরিখে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।

ছবির একটি দৃশ্যে যখন রাম চরণের চরিত্র ‘পেড্ডি’-কে জিজ্ঞেস করা হয় যে সে জাহ্নবীকে কীভাবে চিনবে, তখন সে উত্তর দেয়, “মুখ দেখে নয়, ওর কোমর দেখে চিনে নেব।” এখানেই শেষ নয়, সে আরও যোগ করে, “মুখটা ছাড়া ওই মেয়ের শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি ইঞ্চির খবর আমার জানা আছে।” একজন প্রথম সারির তারকার মুখে এমন সংলাপ এবং নারীর শরীরকে স্রেফ ‘ভোগ্য পণ্য’ হিসেবে তুলে ধরার এই চেষ্টাকে মেনে নিতে পারেননি সাধারণ দর্শক।

বিতর্কের আগুন আরও ঘনীভূত হয় ছবির পরের একটি দৃশ্যে। যেখানে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে জাহ্নবীর ঘরে ঢুকে রাম চরণের চরিত্রটি তাঁকে জোর করে চুমু খাচ্ছে। জাহ্নবীর চরিত্রটি বারবার আপত্তি করা এবং বাধা দেওয়া সত্ত্বেও, নায়ক সেটাকে ‘ভালবাসা প্রকাশের নিজস্ব ধরণ’ বলে কৈফিয়ত দেয়!

সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “রোমান্সের নামে ছবিতে সরাসরি শ্লীলতাহানি বা মোলেস্টেশনকে স্বাভাবিক করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।” এই ঘটনার জেরে খোদ রাম চরণের দিকেও আঙুল উঠেছে। যদিও অভিনেতার ভক্তরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, এতে অভিনেতার কোনও হাত নেই, এটি সম্পূর্ণ পরিচালকের ভাবনা এবং এর ফলে রাম চরণের দুর্নাম করার চেষ্টা চলছে।

চারিদিকে ট্রোলিং আর বয়কটের ডাক আসতেই অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হন ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “আমি সত্যিই আন্দাজ করতে পারিনি যে দর্শকরা এই দৃশ্যগুলোকে এত নেতিবাচকভাবে নেবেন। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল রাম চরণ এবং জাহ্নবীর মধ্যে একটি চটুল ও মিষ্টি প্রেমের গল্প ফুটিয়ে তোলা। তবে দর্শকদের ভাবাবেগে আঘাত লাগায় আমরা দুঃখিত। ভবিষ্যতে আমরা নারী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি সতর্ক থাকব।”

বিতর্ক ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে প্রেক্ষাগৃহে চলতে থাকা সময়েই ছবি থেকে ওই আপত্তিকর দৃশ্য ও সংলাপগুলো ছেঁটে ফেলে পরিবর্তন করা হয়।

‘পেড্ডি’র এই চরম বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যশের আগামী ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ -এ কিয়ারা আদবানির দৃশ্য নিয়েও কানাঘুষো শুরু হয়েছে বলিপাড়ায়। নেটিজেনদের একাংশের মতে,দক্ষিণের বাণিজ্যিক মশলা ছবিতে বলিউড নায়িকাদের অনেক সময়ই কেবল ‘আই ক্যান্ডি’ বা গ্ল্যামার বাড়ানোর পুতুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকে নামমাত্র। গল্পের খাতিরে গ্ল্যামারাস হওয়া এক জিনিস, আর সিনেমার পর্দায় নায়িকাকে কেবল যৌন সুড়সুড়ি দেওয়ার মাধ্যম বানানো অন্য জিনিস। রাম চরণ-জাহ্নবীর এই ‘পেড্ডি-কাণ্ড’ আগামী দিনে বলিউড-সাউথ কোলাবোরেশনের সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, সেটাই এখন দেখার!