'দ্য কেরালা স্টোরি ২ : গোজ বিয়ন্ড' ছবিটি অবশেষে সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে গত সপ্তাহের বক্স অফিসে মুক্তি পেয়েছে। আর মুক্তি পাওয়ার পর চমক দিয়ে একের পর এক মাইলস্টোন পার করে চলেছে। হোলির ছুটিতে বাম্পার ব্যবসা করেছে এই ছবি। দেখে নিন ৬ দিনে মোট কত কোটি টাকা আয় করল 'দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড'।
সূত্রের খবর, বুধবার বক্স অফিসে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যবসা করেছে ছবিটি। যদিও মঙ্গলবার, দোলের দিনের তুলনায় আয় সামান্য হলেও কমেছে। ফলে ৬ দিনের মাথায় বর্তমানে বক্স অফিসে 'দ্য কেরালা স্টোরি ২ : গোজ বিয়ন্ড' ছবিটি ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় করেছে।
যেদিন মুক্তি পেয়েছ সেদিন এই ছবিটি বক্স অফিসে ৭৫ লাখ টাকা আয় করেছে। দ্বিতীয় দিনে সেই আয়ের পরিমাণ এক লাফে বেড়ে হয় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তৃতীয় দিনে আরও একটু বাড়ে ছবির আয়। ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘরে তোলে রবিবার 'দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড'। সোমবার অনেকটাই কমে আয়ের পরিমাণ। চতুর্থ দিনে ছবিটি বক্স অফিসে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যবসা করেছে। মঙ্গলবার, দোলের দিন ছবিটি ৪ কোটি টাকা আয় করেছে।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'দ্য কেরালা স্টোরি' ছবিটি যেটি ২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার সিক্যুয়েল। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম ছবিটি ভারতে মোট ২৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ব্যবসা করেছিল। আর বিশ্বজুড়ে ৩০২ কোটি টাকা আয় করেছিল। বিপুল শাহ ছবিটির পরিচালনা করেছিলেন। অন্যদিকে 'দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড' ছবিটির পরিচালনা করেছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং। এখানে ৩ হিন্দু মহিলার কথা দেখানো হয়েছে যাদের পরিবার মুসলিম ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায়নি এবং পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন।
'দ্য কেরালা স্টোরি ২' ছবিটি নিয়ে কেন জটিলতা তৈরি হয়েছিল? কান্নুরের শ্রীদেব নম্বূদিরি-সহ কয়েকজন আবেদনকারী CBFC-র দেওয়া শংসাপত্রকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। তাঁদের অভিযোগ, ছবিটি কেরল রাজ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এর মুক্তি সাম্প্রদায়িক অশান্তি উসকে দিতে পারে। ছবির প্রচারে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রযোজক বিপুল অম্রুতলাল শাহ ও পরিচালক কামাক্ষা নারায়ণ সিং-এর সঙ্গে সাংবাদিকদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০ জন মহিলাকে মঞ্চে আনা হয়, যাঁরা জোর করে ধর্মান্তরের শিকার বলে দাবি করা হয়। তবে তাঁদের কেউই কেরলের বাসিন্দা নন—এই বিষয়টি ঘিরেই প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকেরা। মিডিয়ার একাংশ অভিযোগ করেন, ছবিটি “কেরলকে অপমান” করছে এবং কেন কোনও “মালয়ালি ভুক্তভোগী” উপস্থিত নেই তা জানতে চান। নির্মাতারা দাবি করেন, এটি একটি “প্যান-ইন্ডিয়া” গল্প, রাজনৈতিক নয় এবং কেরলের নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
