সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সুস্মিতা রায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিচ্ছেদ ও পরবর্তী কাদা ছোড়াছুড়ি। একদিকে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে ‘বিকৃত যৌনতা’ ও ‘থ্রিসাম’-এর অভিযোগ এনেছেন সুস্মিতা, অন্যদিকে সব্যসাচী ও তাঁর ভাই সায়ক পাল্টা তোপ দেগেছেন সুস্মিতার একাধিক বিয়ে নিয়ে। এই ত্রিমুখী লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন এই বিতর্কে ঘি ঢাললেন প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তবে চিরকালই ছকভাঙা তসলিমার কলম এবারও চিরাচরিত নৈতিকতার ধার ধারল না।
মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কলম ধরার জেরেই তাঁকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়। একটা সময় কলকাতাতে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন বিতর্কিত ও জনপ্রিয় কবি-লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি, সমাজমাধ্যমে টানা চলতে থাকা সায়ক-সুস্মিতা-সব্যসাচীর বিতর্ক চোখে পড়েছে তাঁর। এবং সেসব দেখার পর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন নিজের মতামত। তা ফেসবুকের পাতায় ঠিক কী লিখেছেন তিনি?
ফেসবুকের দেওয়ালে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তসলিমা জানিয়েছেন, এই ত্রয়ীর গল্পে তিনি কাউকেই আসলে ‘দোষী’ বলে মনে করছেন না। সুস্মিতা অভিযোগ করেছিলেন যে সব্যসাচী ‘থ্রিসাম’ করতেন। তসলিমার সোজাসাপ্টা যুক্তি, "এও তো দোষের কিছু নয়। পার্টনারদের সম্মতিতে সে এই কাজটি করতেই পারে, কাউকে যদি জোর জবরদস্তি না করে, তাহলে তো সমস্যা নেই।" এমনকী সায়কের সমকামিতা বা শারীরিক চোট নিয়ে ওঠা অভিযোগকেও তিনি ব্যক্তিগত পছন্দের পরিসরেই রেখেছেন।
সুস্মিতার বিরুদ্ধে সব্যসাচী ও সায়কের মূল অভিযোগ ছিল তাঁর একাধিক বিয়ে নিয়ে। সেই প্রসঙ্গেও সুস্মিতার পাশেই দাঁড়িয়েছেন তসলিমা। তাঁর মতে, কেউ যদি পাঁচটা বিয়ে করে আনন্দ পায়, তবে তাতে অন্যের আপত্তি থাকার কারণ নেই। তিনি লিখেছেন, “সে তো আর কাউকে জোর করে বিয়ে করছে না।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সব্যসাচী ও সুস্মিতার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর চলতি বছরের মার্চে নিজের বিজনেস পার্টনার শুভাশিসের সঙ্গে ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুস্মিতা। কিন্তু সেই বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় এই আইনি ও সামাজিক লড়াই। সব্যসাচী ইতিমধ্যেই সুস্মিতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য পুরো বিষয়টিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিল। যেখানে তথাকথিত ‘স্ক্যান্ডাল’ নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেই বড় করে দেখিয়েছেন লেখিকা।
&t=2069s
