বলিউডে পা দিয়েই প্রথম ছবিতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন সারা আলি খান৷ প্রথম দু’টি ছবি সুপারহিট, শুরুটা যেন রূপকথার মতো। কিন্তু সেই সাফল্যের আলোর নেপথ্যে ছিলেন একজন, সারার মা, আশির দশকের কিংবদন্তি অভিনেত্রী অমৃতা সিং, যিনি তাঁর প্রথম অভিনীত ছবি ‘বেতাব’-এ রাতারাতি তারকা হয়েছিলেন।
নিজের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই মেয়েকে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, “রাতারাতি সাফল্য ভয়ঙ্কর জিনিস।”সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কথাই স্মরণ করলেন সারা।
১৯৮৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ‘বেতাব’ ছবিতে অভিনয় অমৃতা সিংকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছিল৷ সানি দেওলের সঙ্গে সেই রোম্যান্টিক ছবি ছিল ব্লকবাস্টার। কিন্তু সেই উত্থান যেমন দ্রুত ছিল, এর সঙ্গে ছিল চাপ, প্রত্যাশা, এবং বহু লুকোনো ক্ষত।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহবিচ্ছেদ, একা হাতে ছেলে-মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব, কঠিন সময়ে অমৃতা যেভাবে নিজেকে সামলেছেন, সেই থেকেই মেয়ে সারাকে দিলেন জীবনের পাঠ৷
সারা বলেন, “মা আমাকে বললেন, রাতারাতি সাফল্য একটি ভয়ঙ্কর জিনিস। কারণ যত দ্রুত উঠবে, তত দ্রুতই পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই পা মাটিতে রেখে চলো।"
২০১৮ সালে অভিষেক কাপুরের ‘কেদারনাথ’ ও রোহিত শেট্টির ‘সিম্বা’— এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুক্তি পেয়েছিল সারা আলি খান অভিনীত দু’টি ছবি। ‘কেদারনাথ’ এনে দিল ফিল্মফেয়ার বেস্ট ডেবিউট অ্যাওয়ার্ড, ‘সিম্বা’ হল ২০১৮-র তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি ছবি। ২৩ বছরের সারা হয়ে উঠলেন রাতারাতি তারকা।
কিন্তু সেই সময়েই মায়ের সতর্কবার্তা মাথায় রেখেছিলেন তিনি। পরবর্তী কয়েকটি ছবিতে সমালোচনা, ট্রোলিং, ব্যর্থতা— সব সামলেছেন স্থির হয়ে। ‘আত্রঙ্গি রে’, ‘জ়রা হটকে জ়রা বচকে’, ‘মেট্রো… ইন দিনো’— ধীরে ধীরে সারা নিজস্ব পরিচয় গড়েছেন।
সারা বলেন, “মা একা হাতে আমাদের মানুষ করেছেন। ” ২০০৪-এ সইফ আলি খান আর অমৃতা সিং-এর বিচ্ছেদ হয়৷ এরপর অমৃতা সারা আর ইব্রাহিমকে একা হাতে মানুষ করেছেন।
সারা বলেন, “মা আমাদের কখনও কোনও অভাব বুঝতে দেননি। তিনিই আমার গ্রাউন্ডিং ফ্যাক্টর। সাফল্যের কারণে মা আমাকে বেশি উড়তে দেননি। তিনিই আমার আয়না।”
ছোটবেলায় বন্ধুদের মায়েরা যখন রান্না করতেন, স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসতেন, সারার মা অভিনেত্রী হওয়ায় সেসব করত পারতেন না। তখন সারার মনখারাপ হত।
অমৃতা তখন মেয়েকে বলেছিলেন, “তোমার কোন বন্ধুর মা ঘোড়ায় চড়তে জানে, অভিনয় করতে জানে? আমি জানি।” সেদিন থেকে আর কখনও মনখারাপ করেননি সারা৷
ট্রোলিং ও সমালোচনা প্রসঙ্গে সারার পরিণত উত্তর— “মা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান। তিনিও অভিনেত্রী, আমিও, তবুও তো মা মেয়ে। আমাকে খারাপ বলা হলে মা কষ্ট পান। অন্যের ভাবনার উপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই৷ আমি ভাল করে কাজ করার চেষ্টা করব৷ সেটাই আমার উত্তর৷















