'কান'-এ আলিয়ার পোশাক যেন রঙিন ক্যানভাস, ফাইন আর্ট আর ফ্যাশনের মিশেলের নেপথ্যে বাসুরী চোকসী, জানেন কে এই শিল্পী?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৩ মে ২০২৬ ২০ : ৩৫
শেয়ার করুন
1
14
কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬— ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায় যখন আলিয়া ভাট্ট পা রাখলেন রেড কার্পেটে, মুহূর্তেই থেমে গেল ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
2
14
আলিয়ার পরনের গাউন যেন এক ক্যানভাস৷ ক্যানভাসের পরতে পরতে রঙের খেলা, সেই রঙ আলিয়ার হাসির আলোয় আরও উজ্জ্বল।
3
14
নরম রঙের খেলা, একাধিক প্যাস্টেল কালার একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে যেন মোহাচ্ছন্ন জগত, অপরূপ তুলির ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ পোশাকটি এক চলমান শিল্পকর্ম।
4
14
কার তুলির টানে এই বিস্ময়ের সৃষ্টি, প্রশ্ন উঠেছিল। আলিয়ার পোশাকের নেপথ্যে রয়েছেন বসুরী চোক্সী (Basuri Chokshi)। ভারতীয় ফ্যাশন-জগতে এই নাম এখন উচ্চারিত হচ্ছে বিস্ময় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে।
5
14
বসুরী চোকসী এমন এক ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট, যিনি ফাইন আর্ট ও ফ্যাশনের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন আলিয়ার পোশাকে৷ তাঁর বিশেষত্ব— ‘হাতে আঁকা টেক্সটাইল’।
6
14
তিনি কাপড়কে দেখেন ক্যানভাস হিসেবে। প্রিন্ট নয়, ডিজিটাল ডিজাইন নয়— শুধুই তুলি, রং, ধৈর্য আর শিল্প। প্রতিটি পোশাক যেন এক একটা ক্যানভাস৷
7
14
তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেখা যায়— গজ-কাপড় বিছিয়ে কীভাবে তিনি স্তরে স্তরে রং চাপান, প্রতিটি স্তর শুকানোর জন্য অপেক্ষা করেন, তারপর আবার তুলির টান৷ এভাবেই সময় আর শিল্প মিলেমিশে একাকার৷
বাসুরী চোকসীর মতে, "প্রতিটি কাপড়ের নিজস্ব ধরন, নিজস্ব ত্রুটি রয়েছে, সেই মতো প্রতিটি কাপড়ের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব থাকা উচিত। প্রিন্ট-মেশিন কখনও এই ‘মানুষী স্পর্শ’ দিতে পারবে না। তাই তাঁর শিল্পকর্মে ছোটখাটো ভুল রেখে দেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই।
10
14
কান ২০২৬-এ আলিয়ার প্রথম লুক ছিল একটি স্ট্রাকচার্ড করসেট বল-গাউন— শৈল্পিক বিস্তারিত কাজে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার অনুপ্রেরণা। আলিয়ার চারপাশে নরম পেস্টেল রং, এক প্রবাহিত সিলুয়েট, যেন গ্রীষ্মের সকালে নরম রোদের আলোয় এক হালকা স্বপ্ন।
11
14
পোশাকের গায়ে কোনো ভারী জড়োয়া কাজ নেই, কোনো জ্যামিতিক প্রিন্ট নেই— শুধু রং, রেখা এবং তুলির গতি। ফ্যাশন-সমালোচকরা একে বলেছেন সামার ড্রিম ইন মোশন (Summer dream in motion)
12
14
বসুরীর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, রং ধরে রাখার জন্য এবং তুলির সহজ যাতায়াত বজায় রাখতে সাধারণত হালকা সিল্ক বা শিফন কাপড় বেছে নেন৷
13
14
এরপর স্তরে স্তরে রং চাপানো হয়৷ প্রতিটি স্তর শুকানোর পর পরের স্তরে রং চাপানো হয়৷
14
14
আঁকার পর সেই কাপড়কে পোশাকের আকার দেওয়া হয়৷ ভারতীয় হস্তশিল্পের পুনর্জাগরণ চলছে বিশ্বমঞ্চে।