বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় টিকে থাকতে গেলে নিখুঁত চেহারা হওয়া চাই—এই অলিখিত নিয়মের বলি হতে হয়েছে অনেক তারকাকেই। সেই তালিকায় এবার যোগ হল কাজল-তনুজার কন্যা তানিশা মুখার্জির নাম। ২০০৫ সালের চর্চিত ছবি ‘নীল অ্যান্ড নিক্কি’-র জন্য ওজন কমাতে গিয়ে কীভাবে তিনি নিজের শরীরের দফারফা করেছিলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর সেই যন্ত্রণার কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। আদিত্য চোপড়ার পরামর্শে শরীরকে টোনড করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হরমোনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি!

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তানিশা জানান, ‘নীল অ্যান্ড নিক্কি’র কাস্টিংয়ের সময় প্রযোজক আদিত্য চোপড়া তাঁকে সরাসরি কিছু রূঢ় বাস্তব শুনিয়েছিলেন। তানিশার কথায়, আদিত্যর কেরিয়ার সংক্রান্ত উপদেশ আগে না শুনলেও এই ছবির জন্য তিনি তাঁর কথা ‘অন্ধের মতো’ মেনে চলার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু সেই আনুগত্যই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

তানিশা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ছবির প্রথম ফটোশুটের পর আদিত্য চোপড়া তাঁর শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা ‘লাভ হ্যান্ডেল’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদিত্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ‘নিক্কি’র চরিত্রের জন্য এই শরীর চলবে না। এরপরই শুরু হয় শরীরের ওপর চরম অত্যাচার। তানিশার কথায়,“সেই প্রথম ফটোশুটের পর আমি উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম। শারীরিক ওই লক্ষ্যের দিকে এতটাই ফোকাসড ছিলাম যে কঠোর ডায়েট আর ওয়ার্কআউট শুরু করি। আদিত্য যখন আমাকে দেখে বললেন— ‘হ্যাঁ, এটাই একদম নিক্কি’, তখন আমি খুশি হয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এর দাম দিতে হয়েছিল অনেক বেশি।”

 

 

 

অভিনেত্রী সতর্ক করে জানান যে, এই ধরনের কঠোর রুটিন শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিষের মতো। তিনি বলেন, “যে কোনও কঠোর নিয়ম টানা চালানো যায় না। যদি জোর করে শরীরকে সেই অবস্থায় আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়, তবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হবেই। আমার সাথে ঠিক সেটাই হয়েছিল।”

২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত অর্জুন সবলোক পরিচালিত এবং উদয় চোপড়া অভিনীত ‘নিল এন নিক্কি’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। নেতিবাচক সমালোচনাও হয়েছিল বিস্তর। কিন্তু তানিশা জানান, সেই ব্যর্থতাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেছিলেন। ২০০৩ সালে ‘শশশশশ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখলেও তাঁর কেরিয়ার সেভাবে ডানা মেলতে পারেনি। যদিও তামিল ছবি ‘উন্নালে উন্নালে’-র জন্য তিনি বিজয় অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ‘বিগ বস ৭’-এ রানার আপ হয়ে এবং আরমান কোহলির সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি ব্যাপক লাইমলাইটে আসেন। এরপর ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ৭’ এবং ‘ঝলক দিখলা যা  ১১’-এর মতো রিয়ালিটি শো-তে তাঁকে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ‘লভ ইউ শঙ্কর’ ছবির মাধ্যমে  রুপোলি পর্দায় ফিরেছিলেন তিনি। তবে ২০ বছর আগের সেই ‘টোনড’ বডি পাওয়ার লড়াই তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছে যে, বড় পর্দার সৌন্দর্যের চেয়ে শরীরের সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি।