তারকাখ্যাতি নিয়ে জন্ম হলেও সুহানা খানের জীবন বরাবরই ছিল নজরদারির মধ্যে। জোয়া আখতারে ‘দ্য আর্চিজ’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর বাবা শাহরুখ খানের সঙ্গে আসন্ন অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিং’ ছবিতে বড়পর্দায় তাঁর থিয়েট্রিক্যাল ডেবিউ। এই পথটা যতটা সহজ বলে অনেকেই মনে করেন, বাস্তবে তা মোটেও তেমন ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে সুহানা জানিয়েছেন, অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের জন্ম হয়েছিল এক তীব্র প্রত্যাখ্যান থেকে, যা তাঁকে চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছিল।

সুহানা জানান, ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বরং একসময় মনে হয়েছিল, যেন তাঁকে এই পথের দিকেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ইউকে-র আরডিংলি কলেজে বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনার সময় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। সেই সময় স্কুলের একটি নাটকে অভিনয়ের জন্য অডিশন দেন তিনি। একটি নির্দিষ্ট চরিত্র পাওয়ার জন্য তিনি ভীষণভাবে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু অভিনেতাদের তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, তাঁকে কোরাসে রাখা হয়েছে। এই প্রত্যাখ্যান তাঁকে ভীষণভাবে আঘাত করে।

সুহানা বলেন, “আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম, খুব হতাশ হয়েছিলাম। আর তখনই বুঝতে পারি, আমি সত্যিই এই চরিত্রগুলো করতে চাই এবং মঞ্চে থাকার রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে চাই।” তিনি জানান, সেই রাতে একা নিজের ঘরে বসে কেঁদেছিলেন, কারণ তাঁর নিজের হতাশা তাঁকেই অবাক করে দিয়েছিল। সেই দুর্বল মুহূর্তটাই তাঁর কাছে এক বড় উপলব্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয় শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, এটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তাঁর নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছা।

সুহানার কথায়, তাঁর কাজের অনুপ্রেরণা আসে কৌতূহল এবং ভালবাসা থেকে।  ইউকে-তে পড়াশোনার পর তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির টিশ স্কুল অফ দ্য আর্টসে অভিনয়ের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেন। সেই কঠোর শিক্ষার পরীক্ষাই এখন চলছে ‘কিং’ ছবির সেটে। শোনা যাচ্ছে, এই ছবিতে তিনি শাহরুখের এক কিলারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁর শিষ্যার ভূমিকায় থাকছেন সুহানা।

শাহরুখ-কন্যার কাছে ফলাফলের চেয়ে প্রক্রিয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, কাজের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেখান থেকেই আসে আসল তৃপ্তি। অভিনয়জীবনের শুরুতেই দাঁড়িয়ে ‘কিং’ ছবিতে বহুল প্রতীক্ষিত ভূমিকাকে সামনে রেখে সুহানা আপাতত স্বচ্ছন্দেই সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে এগোতে দিতে চান।

সুহানা ধীরে কিন্তু দৃঢ় পায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন। বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকার মেয়ে হওয়ার চাপ, প্রত্যাশা ও তুলনার ভিড় পেরিয়ে তিনি অভিনয়কে বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাখ্যান থেকে শেখা এবং কাজের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসাই যেন মসৃণ করে দিয়েছে তাঁর যাত্রাপথ। শুরুটা যতই কঠিন হোক না কেন, সুহানার লক্ষ্য এখন পরিষ্কার। নামের জোরে নয়, কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করা।