কয়েক দিন আগে একটি খবরে রীতিমত শোরগোল পড়ে যায়। নবীনা সিনেমা থেকে স্টার থিয়েটার তথা বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, কন্টেন্ট বা সিনেমা না থাকা। এই অবস্থায় স্ক্রিনিং কমিটির দ্বারস্থ হলেন এক্সিবিটররা। মিটিং শেষে ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস কী জানালেন? 

বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিয়া বলেন, "কিছু দিন আগে সিনেমা হল বন্ধ রাখতে বাধ্য হন এক্সিবিটরা, কারণ কন্টেন্ট ছিল না।  যে ছবি চলছিল তাতেও লোক আসছিল না। তাই স্ক্রিনিং কমিটিকে চিঠি দেন ওঁরা।" 

এক্সিবিটরদের দাবি জানিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, "ওঁদের দাবি, ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। নির্দিষ্ট একটা সময় তাঁদের উপর ফিল্ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাকি সময়গুলোতে তাঁদের কাছে কোনও ছবি নেই, ব্যবসা নেই। যেমন গত দেড় মাস। নবীনা সিনেমা হল বন্ধ রাখতে হয়েছে। কেবল নবীনা কেন, স্টারও প্রায় বন্ধ। তাঁদের বক্তব্য, ইন্ডাস্ট্রিতে এখন যত বড় প্রযোজনা সংস্থা আছে, তাঁরা একসঙ্গে ছবি না এনে, গোটা বছর ধরে এক একজন এক একটি ছবি আনছেন না কেন? তাঁদের মতে, এতে হলগুলো বাংলা ছবিও চালাতে পারবেন, আবার কিছু হিন্দি ছবি, যা ব্যবসা দেয় সেগুলোও চালাতে পারবেন। একসঙ্গে যখন অনেক বাংলা ছবি মুক্তি পায়, তখন স্ক্রিনিং কমিটির অনুরোধে পরপর বাংলা ছবি চালাতে হয়। আর যখন বাংলা সিনেমা থাকে না, তখন হিন্দি সিনেমা কোনও শো দিতে চাইছে না। তাঁরা চাইছেন গোটা বিষয়টার ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশন হোক। তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এবং অনুরোধ করেছেন স্ক্রিনিং কমিটির মাধ্যমে যাতে একসঙ্গে সব বাংলা ছবি না এনে, ৫২ সপ্তাহ ধরে কিছু না কিছু ছবি মুক্তি পাক।" 

একই সুর শোনা যায় পিয়া সেনগুপ্তর গলায়। তিনি বলেন, "বড় বড় প্রযোজক, শিল্পীরা উৎসবের দিনগুলো বেছে নিচ্ছেন ছবি মুক্তির জন্য। বা প্রাইম ডেট নিয়ে মাতামাতি করছেন। একসঙ্গে ৩-৪ ছবি মুক্তি পাচ্ছে। সেই কারণে ৫২ সপ্তাহের গোটাটা এক্সিবিটররা কোনও ছবি পাচ্ছেন না। হল বন্ধ রাখছেন। তাঁদের অনুরোধ, প্রযোজকরা যেন ছবিগুলোকে ৫২ সপ্তাহে ডিস্ট্রিবিউট করে দেওয়া হয়। তাহলে হলগুলো খাদ্য পাবে। হলগুলো চলবে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে। তাঁদের অনুরোধ কেবল প্রাইম ডেটে যেন ছবি না আসে। সারা বছর ধরে যাতে আসে।" 

এদিন বৈঠকে একই সঙ্গে পিয়া সেনগুপ্ত প্রযোজক রাণা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নেপথ্যে রাণা সরকারের একটি পোস্ট। গোটা বিষয়টা জানিয়ে পিয়া বলেন, "এক্সিবিটরদের উদ্দেশ্য হল বন্ধ রাখা নয়। কিন্তু তাঁরা তখনই হল বন্ধ রাখেন যখন তাঁরা অপারগ হন। এই ক্রাইসিসের সময় রাণা সরকার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, এই হল বন্ধ রাখ কারও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতেই পারে। তার জন্য বাংলা সিনেমাকে দোষারোপ করা অর্থহীন। এর পিছনে কে আছেন? ভোটের আগে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আপনাদের কি মনে হয় যাঁরা খেতে পারছেন না তাঁরা রাজনীতি করতে যাচ্ছেন? এই ঘটনাকে ধিক্কার জানাচ্ছি।" 

এই বৈঠকের পর রাণা পিয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, পিয়া নাকি জেনে বুঝে তাঁর ছেলের ছবি চালাতে চাইছেন। পক্ষপাতিত্ব করছেন। দেবকে অপমান করেছেন।