ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক এবং ব্লকবাস্টার ছবি হল 'বাহুবলী'। পরিচালক এস এস রাজামৌলি এবং অভিনেতা প্রভাস-রানা দগ্গুবতীর এই জুড়ি বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সিনেমাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজ যে ছবিকে আমরা সাফল্যের চরম শিখরে দেখি, মুক্তির শুরুতে সেই ছবিকেই তকমা দেওয়া হয়েছিল 'ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়'! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি হাতড়ে এক বিস্ফোরক তথ্য শেয়ার করলেন খোদ পরিচালক।

রাজামৌলি জানান, 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং' মুক্তির প্রথম কয়েকদিন বক্স অফিসের পরিস্থিতি মোটেও আশাব্যাঞ্জক ছিল না। সিনেমাটি তৈরি করতে যে বিশাল অঙ্কের বাজেট লেগেছিল, ওপেনিং উইকএন্ডে সেই তুলনায় আয় আসছিল না। উল্টে ছবির প্রযোজকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল, কারণ সেই মুহূর্তে ছবিটির প্রায় ৭০ কোটি টাকার বিশাল বড় একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে রাজামৌলি বলেন, "প্রথম তিন দিন আমরা চারপাশ থেকে শুধু নেতিবাচক মন্তব্যই শুনছিলাম। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে, 'বাহুবলী' ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফ্লপ বা বিপর্যয় হতে চলেছে। আমাদের ৭০ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা সেই সময়ের হিসেবে একটা অবিশ্বাস্য রকমের বড় ক্ষতি। প্রযোজকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন।"

তবে চতুর্থ দিন থেকে ম্যাজিকের মতো পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ছবিটির দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, জোরালো গল্প এবং মাউথ পাবলিসিটি বা দর্শকদের মুখের কথার জোরে সিনেমা হলগুলোতে ভিড় উপচে পড়তে থাকে। বিশেষ করে তেলুগু সংস্করণের পাশাপাশি হিন্দি বলয়েও ছবিটি রেকর্ড ব্যবসা করতে শুরু করে।

রাজামৌলি আরও যোগ করেন, "প্রভাস এবং রানা দগ্গুবতী সেই কঠিন সময়েও আমাদের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা জানতাম আমরা কী তৈরি করেছি, কিন্তু শুরুর দিকের ওই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমাদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তবে চতুর্থ দিন থেকে যখন টিকিট কাউন্টারে জোয়ার এল, তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।"

শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা এবং নেতিবাচক সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 'বাহুবলী' কেবল ভারতের বুকেই নয়, বিশ্বজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। রাজামৌলির এই অকপট স্বীকারোক্তি আরও একবার প্রমাণ করল যে, বড় সাফল্যের পেছনে কতটা ঝুঁকি এবং কঠিন লড়াই লুকিয়ে থাকে।