২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটল। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন রূপাঞ্জনা মিত্র। পরে ঘাসফুল শিবিরে আসেন। রাজ্যের এই পালাবদল প্রসঙ্গে, সম্প্রতি 'অনেকদিন পর' ছবির প্রিমিয়ারে এসে কথা বললেন অভিনেত্রী।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পালাবদল প্রসঙ্গে রূপাঞ্জনা মিত্র বলেন, "আমরা সবাই কিন্তু রাজনৈতিক প্রাণী। আমরা কেউই রাজনীতি ছাড়া থাকতে পারব না। আমরা যে দেশে থাকি সেখানে সকলেই রাজনীতির বিষয়ে সচেতন। মানুষ অপেক্ষায় ছিল। অনেকদিন এক জায়গায় জলের গতি আটকে গেলে সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য অনেক মানুষের ইতিবাচক শক্তি খুব দরকার হয়। আমার মনে হয় যা হচ্ছে ভালর জন্যই হচ্ছে। আগামী দিনে যা হবে, সেটাও ভালর জন্যই হবে।" তাঁর আরও সংযোজন, "রেজিমেন্টেড পার্টিতে সবাই এক, যেটা এখন দেখা যাচ্ছে, সেটাই কিন্তু হয়। আমি ২০১৯ এ বিজেপি জয়েন করেছিলাম। তখন দল এভাবে কাজ করেনি। করলে ২০২১ এই ক্ষমতায় আসতে পারত।"
তিনি কি এখন আবার বিজেপিতে ফিরবেন? এ হেন জল্পনা বাড়ছে ক্রমাগত। সেই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট জবাব, "২০১৯ সালে আমি রাজধানীতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। তার কারণ ছিল। যে ব্যান কালচার নিয়ে সকলে এখন এত সরব, এটা ২০১৯ এও ছিল। যাঁরা বিরোধী রাজনীতি করে, তাঁদেরই সেই খেসারত দিতে হয়। সুতরাং বিরোধী রাজনীতি করা অতটা সহজ নয়। মানুষকে উপকার করার জন্য কোনও ট্যাগের প্রয়োজন নেই।" রূপাঞ্জনা পদ্মশিবিরে কামব্যাক জল্পনা নিয়ে আরও বলেন, "সেটা এখন বলা কি ঠিক। একটা ছবি দেখতে এসেছি। সব কিছু অত সহজ বলে আমার মনে হয় না। সবটা সময়ের হাতে। আর রাজনীতিতে যদি মানুষের সেবা করার জন্য আসেন,... দেখুন সামনের বছর কর্পোরেশন ইলেকশন, মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশনগুলোর কী অবস্থা? ৫০ বছরের একটা উই খাওয়া স্ট্রাকচার। সেটাকে ঠিক করতে হলে সব স্তর থেকেই সাফাই অভিযান বা স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। ৪ তারিখের পর থেকে মিনিটে মিনিটে সব কিছু বদলাচ্ছে। মানুষের সামনে আসার প্রয়োজনটা দরকার, যখন তাঁদের টাকা নিয়ে সবটা করা। সত্যটা সামনে আসা এবং স্বচ্ছতা থাকা উচিত। লোভটাকে সংযত করে যদি রাজনীতি করা যায় তাহলে তার থেকে ভাল কিছু নেই।" রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, "রাজনীতিতে বয়স একটা জরুরি বিষয়, পিছুটানটাও ম্যাটার করে। আর সব কিছু একসঙ্গে করা যায় না, রাজনীতি করলে রাজনীতি করতে হয়। কারণ এটা সমাজসেবার কাজ, ওটার জন্য একটা আলাদা মন, মনন দরকার হয়। আর যাঁরা দুটো ব্যালেন্স করে চলতে পারেন, সেটা আলাদা ব্যাপার। এর বেশি আর কিছু বলার নেই।"
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য প্রচারে রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিষয়ে রূপাঞ্জনা বলেন, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২০০৭ থেকে একটা আত্মতা আছে। ওঁর সঙ্গে সেই মনের যোগাযোগ থাকবে। তার কারণ তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।" তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যে কখনই ওতপ্রোত ভাবে জড়িত নন, সেটা স্পষ্ট করে দেন। বলেন, "কিন্তু একটা ভুল বার্তা বোধহয় ছড়িয়েছে, যে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থাকা মানেই দলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দলে জয়েন করতে গেলে তাদের পার্টি অফিসে গিয়ে জয়েন করতে হয়।"
ভোটের প্রচারে শিল্পীদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর তাঁদের মুখে নতুন শাসক দলের তারিফ শুনে হয়েছে কটাক্ষের বন্যা। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর জবাব, "শিল্পীদের দলবদলু, গিরগিটি, ইত্যাদি, ইত্যাদি মানুষ অনেক কিছুই বলতে পারে। কিন্তু এই কথাও ঠিক যে শিল্পীদের দরকার হয় রাজনৈতিক প্রচার, রাজনৈতিক মঞ্চে। ১০ জন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ১০ জন শিল্পী, পরিচিত মুখ মঞ্চে দাঁড়ালে তার কিছু তো প্রভাব পড়তই ভোটে।"
ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিশ্বাস ব্রাদার্সের দাপট কমেছে। তাঁদের নানা কীর্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে, সেই বিষয় কারও নাম না করেই রূপাঞ্জনা বলেন, "ব্যান কালচারটা নিয়ে বহুদিন ধরেই আমরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। ২০১৪-১৫ থেকেই নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলাম যখন সেন্টারে বিজেপি সরকার আসে। তারপর আমাদের কাজের সংখ্যা কমে গিয়েছে, আজ এরকম জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। প্রযোজক যদি ১ টাকা ইনভেস্ট করে, তাঁকে তো দেখতে হবে সেই ১ টাকা যেন ফেরত আসে। নইলে সে বিনিয়োগ কেন করবে? এটা ভাল যে ইন্ডাস্ট্রি এখন নতুন করে আশা দেখছে, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। নতুন প্রযোজকরা আসছেন। ভাল কন্টেন্ট আসুক। যেখানে ফিল্ম স্টাডিজ পড়ানো হয় সেখানে জাতীয় স্তরের শিল্পীদের এনে যদি ওয়ার্কশপ করানো হয়, ভাল ফ্যাকাল্টি রাখা হয় তাহলে এর থেকে ভাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আর কিছুতে হবে না। শিল্পীদের যদি বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, তাঁদের প্রতিবাদ করতে না দেওয়া হয় সেখানেই গণতন্ত্র শেষ।
যে প্যানেল বা কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে যাঁরা আছেন প্রত্যেকে খুবই যোগ্য। যা যা সমস্যা এতদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছে বা আছে সেগুলো তাঁরা সমাধান করতে পারবেন বলেই আমি আশাবাদী।"
















