গায়ক ও অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার, যিনি তাঁর স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য বরাবরই পরিচিত। অবশ্যই তাঁর করা রসিকতা, রাজনৈতিক ব্যঙ্গও যথেষ্ট সুপরিচিত জনতামহলে। এদিন সমাজমাধ্যমে গায়ক-অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদারের একটি আবেগঘন পোস্ট এবং পাশাপাশি নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ওঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে শোরগোল টলিপাড়ায়।
২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্যর ছবি নীহারিকা । ছবিতে রয়েছেন শিলাজিৎ মজুমদার, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, মল্লিকা মজুমদার প্রমুখ।সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘ভয়’ গল্পটির অনুপ্রেরণায় ইন্দ্রাশিস তাঁর ছবিটি তৈরি করেছেন। এক প্রত্যন্ত জনপদে মানুষের সমাজিক সম্পর্কের গল্প বলবে এই ছবি। তবে এই ছবি তৈরি করতে কম পরিশ্রম করতে হয়নি পরিচালককে। বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন প্রযোজকের থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে নীহারিকা কে পর্দায় আন্তে পেরেছিলেন তিনি। অবশ্য জনতামহলে দারুণভাবে সমাদৃত হয়েছিল এই ছবি। সমালোচকরাও পিছপা না হয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল ইন্দ্রাশিসের এই ছবি।
কলকাতা ছাড়াও বিহারের মধুপুর, শিমুলতলা, গিরিডিতে ছবির শুটিং হয়েছে। সেই আউটডোর শুটিংয়েরই এক ফাঁকে অনুরাধার সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলেন শিলাজিৎ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অনুরাধার হাতে পলাশ তুলে দিচ্ছেন শিলাজিৎ।
সেই ছবি-ই এদিন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন শিলাজিৎ। তার পাশে আরও একটি ছবি জুড়েছেন তিনি। নন্দন চত্বরে তোলা সেই ছবিতেও এল করে রয়েছেন শিলাজিৎ-অনুরাধা। কতকটা আগের ছবির মতো এই ছবিটিতেও অনুরাধার হাতে একটি ফুল তুলে দিচ্ছেন গায়কঃ-অভিনেতা। আর অভিনেত্রীও ফের হাসিমুখে তা গ্রহণ করছেন। তবে ছবির মন্তাজ নয়। চোখ টেনেছে তার সঙ্গে জুড়ে থাকা ক্যাপশন -"প্রথম ছবিটা ২০২২-এর! নীহারিকার শুটিং চলাকালীন! আর দ্বিতীয় ছবিটা ২০২৬-এর!! নন্দনে প্রত্যাবর্তন এবং অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস পরপর হাউজফুল হওয়ার আনন্দে!! "
এর অর্থ পরিষ্কার। মূলত একজন শিল্পী, পরিচালক বা টিমের পক্ষ থেকে নিজেদের কাজের পেছনের সংগ্রাম (২০২২ সালের শুটিং) এবং বর্তমানের সাফল্যের (২০২৬ সালের নন্দন ও আকাদেমির হাউসফুল শো) একটি তুলনামূলক তো বটেই, সেই সঙ্গে আবেগঘন পোস্ট।
তবে শুধু ছবির সাফল্যই নয়, গত রবিবার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ওঁর নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’-এর প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে একেবারে নিজের চেনা মেজাজে, খোলামেলা ভাষায় ক্ষোভ ও রসিকতা উগরে দিলেন শিলাজিৎ।বিগত সরকারের এক শীর্ষ নেতার দিকে ইঙ্গিত করে কোনও রাখঢাক না করেই শিলাজিৎ বলেন, “বাইপাস দিয়ে যাতায়াতের সময় রাস্তার ধারে এক ব্যক্তির বিশাল ছবির পোস্টার দেখতে দেখতে আমার চরম বিরক্তি ও অস্বস্তি তৈরি হতো। সত্যি বলতে, ওই মুখটা দেখতে আমার একদম ভালো লাগত না, বরং অসহ্য মনে হতো। আমি তো মজা করে বলতাম, রোজ ওই ছবি দেখতে দেখতে আমার বুকে ব্যথা হয়ে যেত!”
রাজ্যের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষকেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে একটি কড়া কিন্তু রসিকতায় মোড়া বার্তা দেন শিলাজিৎ। রুদ্রনীলের দিকে তাকিয়ে গায়ক বলেন, যদি ভবিষ্যতে কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাইপাসের ধারে বা শহরের রাস্তায় ওঁর (রুদ্রনীলের) ছবি দেওয়া বড় বড় রাজনৈতিক পোস্টার ঝোলে, তবে তিনি সহ্য করবেন না। শিলাজিৎ সরাসরি বলেন, “যদি এমন দিন আসে, আমি তোকে সরাসরি ফোন করে আপত্তি জানাব যে এই অপ্রয়োজনীয় পোস্টারগুলো নামা!”
শিলাজিতের এই চাঁছাছোলা বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, তিনি শহরের বুকে দলদাসত্ব বা নেতাদের ছবির অপ্রয়োজনীয় ‘পোস্টার সংস্কৃতি’র ঘোর বিরোধী। একদিকে ‘প্রত্যাবর্তন’ ও ‘অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’ ছবির হাউসফুল হওয়া, আর অন্যদিকে টলিপাড়ার এই চির-বিদ্রোহী শিল্পীর রাজনৈতিক সপাটে ব্যাটিং— দুই মিলিয়ে এই মুহূর্তে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই ‘শিলাজিৎ’।















