সালটা ১৯৬৬। জনপ্রিয় বিনোদনের ম্যাগাজিনের কভার ফটোতে বিকিনি পরিহিত শর্মিলা ঠাকুরের ছবি হইচই ফেলে দেয়। সেই ঘটনার ৫৯ বছর অতিক্রান্ত। এত বছর। এমন দুঃসাহসী পদক্ষেপ, বিতর্ক গোটা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। জানালেন এই শুটের আইডিয়া কার ছিল, কী প্রতিক্রিয়া ছিল তাঁর স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদির। 

এদিন একটি টক শোয়ে এসে শর্মিলা ঠাকুর জানান, বিকিনিতে ফটোশুটের আইডিয়া ছিল তাঁরই! ম্যাগাজিনটি প্রকাশিত হওয়ার পর দারুণ সমালোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই ফটোশুটের প্রস্তাব কীভাবে আসে তাঁর কাছে? সেই সময়ের স্মৃতি হাতড়ে শর্মিলা ঠাকুর বলেন, "ওরা কিছু ছবি চেয়েছিল। খুব সম্ভবত লোকটির নাম ছিল ধীরাজ চাওলা। তখন আমি বলিনি বিকিনিতে হলে কেমন হয়? অন্য কাউকে দোষ দিতে পারি না। আমিই করেছিলাম। ভেবেছিলাম ব্যাপারটা ভাল লাগবে। এখন এই বয়সে করার থেকে তখন করলে ভাল লাগবে বলে মনে হয়েছিল।" 

বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কিন্তু তারপর যে সমালোচনা, বিতর্ক শুরু হয়েছিল, বাপরে বাপ! আমি তখন শক্তিজির কাছে যাই। অনেকে ভেবেছিলেন আমি বোধহয় গোটাটাই খুব প্ল্যান করে, নজর কাড়ার জন্য, বাণিজ্যিক ভাবে সফল হওয়ার জন্য করেছি। কিন্তু আমি এসব কিছুই করিনি। তো তখন শক্তিজির কাছে যাওয়ার পর উনি বিস্তর জ্ঞান দেন, বলেন অভিনেত্রীদের কেমন আচরণ করা উচিত, তাঁদের সকলে সিরিয়াসলি নিক এটা চাইলে কী করণীয় সেসব বিষয়ে বললেন। আমি সেটা শুনলাম। বুঝলাম। এটা ঠিকই, আপনি যখন অনেক মানুষকে নিয়ে ডিল করছেন, যাঁদের একটা আইডিয়া আছে, তার উপর সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে, ফলে আমি সেই ভুল থেকে শিখলাম।" আজ এত বছর পর এই ছবি দেখে কী মনে হয় শর্মিলা ঠাকুরের? অপ্রস্তুতে পড়েন নাকি ভাল লাগে? তাঁর জবাব, "আমার ভালই লাগে। ঠিক আছে।" 

এই জনপ্রিয় ম্যাগাজিনটিতে তাঁর বিকিনি পরা ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরই স্বামী মনসুর আলি খান পতৌদিকে টেলিগ্রাম করেন অভিনেত্রী। কিন্তু কেন? কী প্রতিক্রিয়া ছিল নবাবের? বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর কথায়, "লোকজন যেমন বিশ্রী রিঅ্যাক্ট করছিল তাই ওকে টেলিগ্রাম করি। তখন ও লন্ডনে ক্রিকেট খেলছিল। আমার টেলিগ্রাম পাওয়ার পর ও বলেছিল তোমায় নিশ্চয় ভাল লাগছিল। ও খুব সপোর্টিভ ছিল, সবসময়ই। সব বিষয়ে সাপোর্ট করত।"