এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত সায়নী গুপ্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি একটি উচ্চ বেতনের কর্পোরেট চাকরি করতেন, যা পরে ছেড়ে দেন অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে।

সায়নী জানান, ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই লক্ষ্যেই পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন তাঁর মা। এক সাক্ষাৎকারে সায়নী বলেন, “আমার মা বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ওখানে যাও, আমি নিজের কবজি কেটে ফেলব।’ উনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে আমি এত ভাল চাকরি ছেড়ে ফিল্ম পড়তে চাইছি।”

সায়নী আরও জানান, তাঁর মা একাই তাঁকে বড় করেছেন এবং সেই কারণেই মেয়ের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। অভিনেত্রীর কথায়, “ওই দেড় বছর আমি ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। কাজের নেশায় ডুবে ছিলাম বলে প্রচুর টাকা রোজগার করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু আমি যেমন জীবন চেয়েছিলাম, পাইনি।”

তাঁর বাবা যদিও তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, তবুও পরিবারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মূলত মায়ের হাতেই ছিল। সায়নী জানান, এফটিআইআই-তে সুযোগ পাওয়ার পর প্রায় এক মাস তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি মা। অভিনেত্রীর দাবি, ছোটবেলায় তাঁর মা অভিনেতাদের ‘যৌনকর্মী’ বলে উল্লেখ করতেন এবং মেয়ের অভিনেত্রী হয়ে ওঠাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভয়। সায়নী বলেন, “থিয়েটারের রিহার্সালে যেতে দিতেন না। দরজা বন্ধ করে দিতেন এই বলে যে, অভিনেতারা ভাল মানুষ নয়। এটাই ছিল তাঁর ধারণা।”

তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির বদলায়। সায়নীর এফটিআইআই-এ পড়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেন তাঁর মা। সেখানে তিনি যখন যা, তখন প্রবীণ অভিনেত্রীর অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই পাঁচটি স্টুডেন্ট ফিল্মে প্রস্তাব পান। তিনি তার মধ্যে তিনটিতে অভিনয় করেন। সায়নীকে তাঁর মা বলেন, “আগামী দু’বছর যদি তোমাকে এটা করতেই হয়, বিষয়টা খুব খারাপও হবে না।” এর পর আর ফিরে তাকাননি সায়নী। একের পর এক ছবি, সিরিজ করে বলিউডে নিজের জায়াগা পাকা করেন তিনি।

সায়নীকে অভিনয় করেছেন ‘জলি এলএলবি ২’, ‘পাগলাইট’, ‘আর্টিকেল ১৫’, ‘অ্যাক্সোন’- সহ একাধিক ছবিতে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’এর চতুর্থ সিজনের পর নির্মাতারা সিরিজটি থেকে একটি সিনেমা তৈরির কথা ভাবতে পারেন।